তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার অধ্যায়ের রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। তােমার কম্পিউটারটি ভাইরাস আক্রান্ত হলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ  করবে।

উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস হলাে এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সংক্রামিত হতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে  অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল করা ছাড়া তা ব্যবহার করা বিপদজনক। উপস্থিত  তবে ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটারকে সারিয়ে তােলার জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। এর একটি হলাে এন্টিভাইরাস ব্যবহার করে ভাইরাসটিকে অকেজো করে রাখা বা মুছে ফেলা। যদি কোন কম্পিউটারে এমন কোন দুর্নীতি  ভাইরাস থাকে যা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারের পক্ষে মুছে ফেলা সম্ভব না তবে অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল করা জরুরি। তবে কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হতে না দেওয়াটাই হলাে বুদ্ধিমানের কাজ। এজন্য কম্পিউটার ব্যবহারে আমাদের কিছু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।

প্রশ্ন-২. পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাঁচটি সুবিধা লিখ।

উত্তর: ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়  হলাে পাসওয়ার্ড। এটি ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাঁচটি সুবিধা উল্লেখ করা হলাে

১.পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের একাউন্টটি সুরক্ষিত রাখা যায়। তা হলে যে কেউ সেই আইডিটি ব্যবহার করতে পারে।

২.হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচা যায়।

৩.নিজের অনলাইন পরিচয় গােপন রাখা যায়।

৪.সাইবার অপরাধের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫.তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

প্রশ্ন-৩। তথ্য ও যােগযােগ প্রযুক্তি দুর্নীতি নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: পৃথিবীর সব দেশেই কোনাে না কোনাে ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে। পৃথিবী থেকে দুর্নীতি কমানাের জন্য তথ্য প্রযুক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি সকল তথ্য সবার সামনে উপস্থিত করতে পেরেছে। কাজেই কোথাও কোনাে দুর্নীতি করা হলে সেটি সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। যেমন- কোনাে প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি করে আর্থিক লেনদেন করা হলে সেটি মূল তথ্যভাণ্ডারে চলে আসছে এবং স্বচ্ছতার কারণে সেটি অন্যদের চোখের সামনে চলে আসছে। সে কারণে দুনীতিপরায়ণ মানুষ কিংবা প্রতিষ্ঠান অনেক সময় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় না। অর্থাৎ দুর্নীতি নিরসনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে দুর্নীতির পরিমাণ ততাে কমবে।

প্রশ্ন-৪। কোন কোন কাজ সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য?

উত্তর: সাইবার অপরাধ হচ্ছে একধরনের অপরাধ যা তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে সংগঠিত করা হয়। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয়। সাইবার অপরাধ শুধুমাত্র অনলাইনে সংগঠিত হয় এবং প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন উপায়ে সাইবার অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। নিচে বিভিন্ন সাইবার অপরাধ এর নাম উল্লেখ করা হলাে স্প্যাম, অনলাইনে প্রতারণা, অনলাইনে আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ, অনলাইনে হুমকি প্রদর্শন, সাইবার যুদ্ধ ইত্যাদি সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রশ্ন-৫। নিরাপত্তা বলতে কী বুঝ? অনলাইনে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়? ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: বিপদ বা হুমকির কার্যক্রম থেকে নিরাপদ বা মুক্ত থাকার নামই হচ্ছে নিরাপত্তা। কিন্তু তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিতে কম্পিউটার নিরাপত্তা হচ্ছে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ক্ষতি না হওয়া বরং সিস্টেমকে সুরক্ষা করা সিস্টেমের তথ্যের অপব্যবহার রােধ করা ইত্যাদি। এসবকে নিরাপত্তা বােঝায় অনলাইনে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে-নিরাপদের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তবে অনলাইনে নিরাপদ থাকার প্রথম উপায় হচ্ছে নিজ সতর্ক থাকা। কেননা সবসময় কিছু অসাধু মানুষ অনলাইনে নিজের পরিচয় গােপন রেখে ঘুরাফেরা করছে তারা সুযােগ পেলে আপনার ক্ষতি করবে। সে কারণে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা বিভিন্ন একাউন্ট ইনফরমেশন শেয়ার না করা। অনলাইনে কোনাে massage বা Text box-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না পূরণ করা। সবকিছু বিষয়ে সতর্ক থেকে অনলাইন ডেটা ব্যবহার করা। অপরিচিত ব্যক্তির সাথে যােগাযােগ না করা। অপ্রয়ােজনীয় বা লােভনীয় সাইটে প্রবেশ না করাই উত্তম। কেননা এই সাইটগুলাে আপনার তথ্যকে গােপনে ট্রান্সফার করতে পারে। এভাবেই অনলাইনে নিরাপদ থাকা যায়।



প্রশ্ন-৬। পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুবিধাগুলাে সংক্ষেপে লেখাে।

উত্তর: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়। নিম্নে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুবিধাগুলাে সংক্ষেপে লেখা হলাে:

১.কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নিরাপদ নিশ্চিত করতে।

২.আইসিটি যন্ত্রে অবৈধ ব্যবহারকারীর প্রবেশ বন্ধে।

৩.সামাজিক যােগাযােগ সাইটে নিজের তথ্য নিরাপদ রাখতে।

৪.সিস্টেমের তথ্যের অপব্যবহার রােধ করতে।

৫.তথ্যের গােপনীয়তা রক্ষার্থে।

৬.ব্যক্তিগত তথ্য বা নথিপত্র গােপন রাখতে।

৭.ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বিশেষ করে ফেসবুক, জি-মেইল আইডি

৮.ডেটা সেন্টারে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাসওয়ার্ড ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন-৭। ফায়ারওয়াল বলতে কী বুঝ?

উত্তর: বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ তথ্যের জন্য ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে। আর ইন্টারনেট নির্ভর করে নেটওয়ার্কের ওপর। নেটওয়ার্ক দিয়ে যেহেতু সবাই সবার সাথে যুক্ত, তাই কিছু অসাধু মানুষ এই নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে যেখানে তার যাওয়ার কথা নয় সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে। যে তথ্যগুলাে কোনাে কারণে গােপন রাখা হয়েছে, সেগুলাে দেখার চেষ্টা করে। যারা নেটওয়ার্ক তৈরি করিয়েছেন, তারা সবসময়ই চেষ্টা করেন কেউ যেন সেটা করতে না পারে। প্রত্যেকটা নেওয়ার্কের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, যাতে নেউ যেন সেই নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকতে না পারে । নিরাপত্তার এই অদৃশ্য দেয়ালকে ফায়ারওয়াল বলা হয় ।

প্রশ্ন-৮। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা রক্ষায় করণীয় পদক্ষেপগুলাে আলােচনা করাে।

উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এক বা একাধিক কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত হয়। নেটওয়ার্কে অনেক অসৎ ব্যবহারকারী থাকে যা নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটাতে পারে। তাই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য করণীয় পদক্ষেপসমূহ নিম্নে আলােচনা করা হলাে:

১.নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল : প্রত্যেক কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, কেউ যেন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকতে না পারে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাম হচ্ছে ফায়ারওয়াল।

২.পাসওয়ার্ড : নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে যাবার সময় পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। পাসওয়ার্ডটি এমনভাবে দেওয়া হয় কেউ যেন এটি সহজে অনুমান করতে না পারে।

৩.Captcha পদ্ধতি : পাসওয়ার্ড দিয়ে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার সময় Captcha পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। কেননা অনেক অসাধু ব্যবহারকারী রয়েছে যারা রােবট সিস্টেম দিয়ে পাসওয়ার্ড বের করে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। যখন Captcha পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় তখন রােবট হ্যাক করতে পারে না। অর্থাৎ রােবট Captcha পদ্ধতি বুঝতে বা পড়তে পারে না।

প্রশ্ন-৯।Captcha পদ্ধতি কেন ব্যবহার করা হয় ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: মানুষ এবং যন্ত্রকে আলাদা করার জন্য কোনাে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার সময় একটি বিশেষ লেখা পড়ে সেটি টাইপ করতে হয়। মানুষ এবং যন্ত্রকে আলাদা করার উক্ত পদ্ধতিকে Captcha বলে। বর্তমানে বিশেষ ধরনের কম্পিউটার বা রােবট তৈরি করা হয়েছে যা সারাক্ষণই সম্ভাব্য সকল পাসওয়ার্ড দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে যতক্ষণ না সঠিক পাসওয়ার্ডটি বের হয়। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য আমাদের সকল ওয়েব অ্যাকাউন্টে ঢােকার সময় সঠিক পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরেও একটি বিশেষ লেখা পড়ে সেটি টাইপ করে দেওয়া, অর্থাৎ Captcha পদ্ধতিটি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করতে হবে। কারণ উক্ত লেখাটি সত্যিকার মানুষ সহলে বুঝে টাইপ করতে পারলেও একটি যন্ত্র বা রােবট লেখাটির সঠিক রূপ ধরতে পারে না। ফলে মানুষ এবং যন্ত্রকে যেমন আলাদা করা সম্ভব হয়, তেমনি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও রক্ষা করা সম্ভব হয়।

প্রশ্ন-১০। কম্পিউটার ভাইরাস কী? এটি কিভাবে কাজ করে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস হলাে এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সংক্রমিত হতে পারে। যখন কোনাে ডাইরাস আক্রান্ত প্রােগ্রাম চালানাে হয়, তখন ভাইরাসটি অন্যান্য কার্যকরী ফাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমিত করে। অর্থাৎ কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়া (অজান্তে হলেও) ছড়িয়ে পড়তে পারে না। যেমন, কোনাে পেনড্রাইভে কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত কোন ফাইল থাকলেই তা ছড়িয়ে পড়তে পারে না। যদি কোনাে কম্পিউটারে সেই পেনড্রাইভ যুক্ত করে ব্যবহার করা হয় তাহলেই কেবল পেনড্রাইভের ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে উঠত পারে। এভাবে ভাইরাস কম্পিউটারের ছড়িয়ে পরে ফাইলের এক্সিকিউটেবল অংশে আক্রমণ করে। ফলে ফাইলের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।



প্রশ্ন-১১। ম্যালওয়্যার? ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ বর্ণনা।

অথবা, প্রচলিত ও শনাক্তকৃত ম্যালওয়্যারসমূহের বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ যে সকল প্রােগ্রামিং কোড বা প্রােগ্রামসমূহ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর যেই সকল, সফটওয়্যারকে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা মেলিসিয়াস সফটওয়্যার বলে। আর এ মেলিসিয়াস সফটওয়্যারগুলােকে সংক্ষেপে ম্যালওয়্যার বলে।

ম্যালওয়্যারে প্রকারভেদ আলােচনা করা হলাে: প্রচলিত ও শনাক্তকৃত ম্যালওয়্যারসমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত তিন ধরনের ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়

ক.কম্পিউটার ভাইরাস

খ.কম্পিউটার ওয়ার্ম

গ.ট্রোজান হর্স

ক. কম্পিউটার ভাইরাস: কম্পিউটার ভাইরাস হলাে এমন ধরনের ম্যালওয়্যার যা কোনাে কার্যকরী ফাইলের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

খ. কম্পিউটার ওয়ার্ম: কম্পিউটার ওয়ার্ম সেই প্রােগ্রাম যা কোনাে নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য কম্পিউটারকেও সংক্রমিত করে।

গ. ট্রোজান হর্স: অনেক ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ভালাে সফটওয়্যারের ছদ্মাবরণে নিজেকে আড়াল করে রাখে। ব্যবহারকারী সরল বিশ্বাসে সেটিকে ব্যবহার করে। এটি হলাে ট্রোজান হর্স।

প্রশ্ন-১২। ম্যালওয়ার কী? কম্পিউটার ভাইরাসের বর্ণনা দাও।

উত্তর: এমন প্রােগ্রামিং কোড বা প্রােগ্রামসমূহ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের প্রােগ্রাম/সফটওয়্যারকে বলা হয় মেলিসিয়াস সফটওয়্যার। মেলিসিয়াস সফটওয়্যারকে বলা হয় ম্যালওয়্যার । কম্পিউটার ভাইরাস হলাে এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সংক্রমিত হতে পারে। এটি ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপে ছড়িয়ে পড়ে। এটি কম্পিউটার সিস্টেমের নানা ধরনের ক্ষতি করে থাকে। এর মধ্যে দৃশ্যমান ক্ষতি যেমন কম্পিউটারের গতি কমে যায়, হ্যাং হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন রিবুট হওয়া। তবে কিছু কিছু কম্পিউটার ভাইরাস সিস্টেমের ক্ষতি করে না, কেবল ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রশ্ন-১৩। ম্যালওয়্যার?ম্যালওয়্যার কীভাবে কাজ করে?ব্যাখ্যা করাে?

উত্তর: ম্যালওয়্যার একটি ক্ষতিকারক প্রােগ্রাম বা সফটওয়্যার যা কম্পিউটারে ব্যবহৃত অন্য সফটওয়্যারগুলাের কাঙ্ক্ষিত কর্ম সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে।

যে সকল কম্পিউটার সিস্টেমে সফটওয়্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জুটি থাকে, সেসব ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যার তৈরির সুযােগ সৃষ্টি হয়। কেবল নিরাপত্তা ত্রুটি নয় ডিজাইনে গলদ কিংবা ভুল গ্লাকলেও সফটওয়্যারটিকে অকার্যকর করার জন্য ম্যালওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে উইন্ডােজ অপারেটিং সিস্টেমের ম্যালওয়্যারের সংখ্যা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় বেশি। এর একটি কারণ বিশ্বে উইন্ডােজ ব্যবহাকারীর সংখ্যা বেশি। উইন্ডােজ অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরের খবর কেউ জানে না। কাজে কোনাে ভুল বা গলদ কেউ বের করতে পারলে সে সেটিকে ব্যবহার করে, ম্যালওয়্যার তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেটের বিকাশের আগে ম্যালওয়্যারের সংখ্যা খুবই কম ছিল। যখন থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ম্যালওয়্যারকে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তখন থেকেই ম্যালওয়্যারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রশ্ন-১৪। মেলিসিয়াস সফটওয়্যার কী? ম্যালওয়্যার থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় লিখ।

উত্তর: যে সকল প্রােগ্রামিং কোড বা প্রােগ্রামসমূহ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর যেই সকল সফটওয়্যারকে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা মেলিসিয়াস সফটওয়্যার বলে।

ম্যালওয়্যার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায়:

বিশেষ ধরনের কম্পিউটার প্রােগ্রাম ব্যবহার করে ভাইরাস, ওয়ার্ম কিংবা ট্রোজান হর্স ইত্যাদি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। এগুলােকে বলা হয় এন্টি-ভাইরাস বা এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার। বেশিরভাগ এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের বিরুদ্ধে কার্যকরী হলেও প্রথম থেকে এন্টি-ডাইরাস সফটওয়্যার নামে পরিচিত। সকল ভাইরাস, প্রােগ্রামের কিছু সুনির্দিষ্ট ধরণ বা প্যাটার্ন রয়েছে। এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এই সকল প্যাটার্নের একটি তালিকা সংরক্ষণ করে। যখন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারকে কাজ করতে দেওয়া হয়, তখন সেটি কম্পিউটার সিস্টেমের বিভিন্ন ফাইলে বিশেষ নকশা খুঁজে বের করে এবং তা তার নিজস্ব তালিকার সঙ্গে তুলনা করে। যদি এটি মিলে যায় তাহলে এটিকে ভাইরাস হিসাবে শনাক্ত করে মুছে ফেলে। উল্লেখ্য যে, এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলােকে নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

প্রশ্ন-১৫। ক্ষতিকারক সফটওয়্যার কী ও পাঁচটি ক্ষতিকারক সফটওয়্যারের নাম লেখ। 

উত্তর: ক্ষতিকারক সফটওয়্যার হলাে এক ধরনের প্রােগ্রামিং কোড বা প্রােগ্রাম যা সাধারণত সফটওয়্যারের কাজে বিঘ্ন ঘটায়, বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের সফটওয়্যার ইন্টারফেস বিনষ্ট করে কিংবা কম্পিউটারের সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতাকে বিনষ্ট করে দেয়।

পাঁচটি ক্ষতিকর, সফটওয়্যারের নাম হলাে- কম্পিউটার ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান হর্স, রুটকিটস, স্পাইওয়্যার।

প্রশ্ন-১৬। ম্যালওয়্যার কম্পিউটারের কী ক্ষতিসাধন করে তা নিচে আলােচনা করা হলাে। 

উত্তর: ম্যালওয়্যার হচ্ছে একধরনের সফটওয়্যার যা কম্পিউটারে ব্যবহৃত অন্য সফটওয়্যারের কাঙ্খিত কর্ম সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে। ম্যালওয়্যার যে ধরনের ক্ষতি সাধন করে তা নিম্নে দেওয়া হলােঃ

i.ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে রক্ষিত তথ্য চুরি করে।

ii.ব্যবহারকারীর অজান্তে তার কম্পিউটারের প্রবেশাধিকার লাভ করে।

iii.কম্পিউটারের অন্তর্গত সিস্টেম ফাইল নষ্ট করে ফেলতে পারে।

iv.ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে প্রােগ্রামিং কোড, স্ক্রিপ্ট বা সক্রিয় তথ্যাধার হিসেবে প্রকাশিত হতে পারে। 

অর্থাৎ কম্পিউটারে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যারের সাধারণ নামই হচ্ছে ম্যালওয়্যার।

প্রশ্ন-১৮. নিবাসী ভাইরাস কী?

উত্তর: যে সকল ভাইরাস সক্রিয় হওয়ার পর মেমােরিতে স্থায়ীভাবে বসে থাকে। যখনই অন্য কোনাে প্রােগ্রাম চালু হয়, তখনই সেটি সেই প্রােগ্রামকে সংক্রমিত করে। এ ধরনের ভাইরাসকে বলা হয় নিবাসী ভাইরাস বা Resident Virus ।

প্রশ্ন-১৯। কম্পিউটার ভাইরাস কী? কম্পিউটারে ডাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলাে কী কী? 

উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস: কম্পিউটার ভাইরাস হলাে এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সংক্রমিক হতে পারে।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলাে হলােঃ

১.কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া

২.কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যাওয়া

৩.কম্পিউটার ঘন ঘন রিবুট হওয়া

৪.অ্যাপ্লিকেশন প্রােগ্রাম সঠিকভাবে কাজ করে না

৫.কম্পিউটারের মনিটরে অযৌক্তিক বার্তা প্রদর্শন করে

প্রশ্ন-২০। কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত করতে কী কী করা যায় সংক্ষেপে বর্ণনা করাে।

উত্তর: কম্পিউটারটিকে ভাইরাস মুক্ত করার জন্য যা করতে হবে তা হলাে- কোনাে কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কাজ করার গতি কমে যেতে পারে বা ডিস্কের নাম পরিবর্তন ও অযৌক্তিক বার্তা প্রদর্শিত ও হতে পারে। ফলে কম্পিউটারটিকে ভাইরাস মুক্ত করার জন্য ভাইরাস প্রতিরােধী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ভাইরাসে আক্রান্ত কম্পিউটারে সর্বশেষ ভার্সনের শক্তিশালী এন্টিভাইরাস ইনস্টল করে কম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত সকল ফাইল স্ক্যান করতে হবে। অরিজিনাল লাইসেন্সধারী এন্টিভাইরাস ব্যবহার করলে ভালাে ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি নিয়মিত ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপডেট করতে হবে। তারপরেও ভাইরাস দূর না হলে কম্পিউটারটিতে ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমটি আইইনস্টল করে আবার নতুনভাবে ইনস্টল করতে হবে।



প্রশ্ন-২১। কম্পিউটার ভাইরাস বলতে কী বুঝ? এটি কম্পিউটারে কী ধরনের ক্ষতি করে? 

উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস হলাে এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম যা সাধারণ সফটওয়্যারের কাজে বিঘ্ন ঘটায়, বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের সফটওয়্যার ইন্টারফেস বিনষ্ট করে কিংবা সম্পূর্ণ কম্পিউটারের কর্মক্ষমতাকে বিনষ্ট করে দেয়। এটি ব্যবহারকারীর অগােচরে কম্পিউটারে সংক্রমিত হয়। কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটারের যে ধরনের ক্ষতি করতে পারে তা নিম্নে দেওয়া হলােঃ

কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটার সিস্টেমে নানা ধরনের ক্ষতি করে থাকে। এর মধ্যে দৃশ্যমান ক্ষতি যেমন কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া, হ্যাং হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন রিবুট (Reboot) হওয়া ইত্যাদি। তবে, বেশিরভাগ ভাইরাসই ব্যবহারকারীর অজান্তে তার সিস্টেমের ক্ষতি করে থাকে। কিছু কিছু ভাইরাস সিস্টেমের ক্ষতি করে না, কেবল ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সিআইএইচ নামে একটি সাড়া জাগানাে ভাইরাস প্রতিবছর ২৬ এপ্রিল সক্রিয় হয়ে কম্পিউটার হার্ডডিস্ককে ফরম্যাট করে ফেলতাে।

প্রশ্ন-২২. ভাইরাস কী? মানব ভাইরাস ও কম্পিউটার ভাইরাসের মধ্যে সাদৃশ লিখাে।

উত্তর: ভাইরাস হলাে এক ধরনের ক্ষতিকর প্রােগ্রাম। যা কম্পিউটারে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে কাজের বিঘ্ন ঘটায়। মানব ভাইরাস হলাে এক ধরনের জীবাণু। যা প্রাণী বা মানুষের দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের রােগ সৃষ্টি করে। যেমন- বার্ড-ফ্লু, সােয়াইন-ফু, ইনফ্লুয়ো। এসকল ভাইরাস ছােয়াচে যা এক মানব দেহ থেকে অন্য দেহে সহজেই সংক্রমিত করতে পারে। অপরদিকে কম্পিউটার ভাইরাস হলাে ক্ষতিকর প্রােগ্রাম যা কম্পিউটারের সিকিউরিটি ও অপারেটিং সিস্টেমকে বিকল করে দেয়। মানব ভাইরাস যেমন মানবদেহে রােগ সৃষ্টি করে তদুপ কম্পিউটার ভাইরাসও কম্পিউটারের বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে।

প্রশ্ন-২৫. কিভাবে ঝুঁকিমুক্তভাবে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারবাে?

উত্তর: বর্তমানে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করলেও দিন দিন এটির ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। কেননা, ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কে অনেক অসাধু ব্যবহারকারী থাকেন, যারা অন্যের প্রযুক্তির নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটায়। সুতরাং তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ব্যবহারকারীকে অনেক সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে সােসাল নেটওয়ার্কিং সাইট (ফেসবুক, টুইটার) ব্যবহার করার সময় প্রকৃত ব্যক্তি শনাক্ত করে সামাজিক যােগাযােগ বিনিময় করতে হবে। কেননা, অনেক ব্যবহারকারী রয়েছে যারা নিজের প্রকৃত পরিচয় গােপন করে ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা করে থাকে। অপরিচিত ব্যক্তিকে নিজের ই-মেইল বা ফেসবুক একাউন্টের তথ্য যেমন- বয়স, জন্ম তারিখ, গােপন তথ্য, পাসওয়ার্ড শেয়ার করা যাবে। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব নেটওয়ার্কে দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ক্যাপচা পদ্ধতি ব্যবহার করে বােরট ও মানুষকে আলাদা করার ব্যবস্থা করে আরাে ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায়। এভাবেই তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার ঝুঁকিমুক্ত করা যায়।

প্রশ্ন-২৬. অনলাইন পরিচয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখতে করণীয়সমূহ লেখাে। অথবা, অনলাইন পরিচয়ে নিরাপত্তা রক্ষার্থে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়? লেখাে। 

উত্তর: অনলাইন হচ্ছে ভার্চুয়াল জগৎ। এখানে কেউ কাউকে সরাসরি দেখতে পায়না বিধায় অনেক কিছু গােপন থাকে। তাই অনলাইন পরিচয় হওয়ার পর নিরাপত্তা রক্ষার্থে যে পদক্ষেপ বা করণীয় তা নিম্নে লেখা হলাে:

১.সবসময় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন- মােবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি গােপন রাখা।

২.অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যাচাই বাচাই করে নিতে হবে। একেবারে অপরিচিত এবং ছন্দ পরিচয়ধারী কাউকে বিশ্বাস না করাই ভালাে।

৩.নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইল আইডি দিয়ে যখন সামাজিক যােগাযােগ সাইট ব্যবহার করবাে তখন অপরিচিত বা কোনাে ব্যক্তির সাথে পরিচয়ে সতর্ক থাকবাে।

৪.সবসময় পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে অনলাইন যােগাযােগের চেষ্টা করবাে।

৫.অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কোনাে ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহীমূলক কথাবার্তা বলা যাবে না।

৬.যদি প্রকৃত ব্যক্তিকে শণাক্ত করা না যায় তবে তাকে সন্দেহভাজন তালিকায় রাখাটাই শ্রেয়।

প্রশ্ন-২৭. হ্যাকার সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করাে।

অথবা, কম্পিউটার হ্যাকিং কী? এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় কেন? 

উত্তর: হ্যাকিং বলতে বােঝানাে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা ব্যবহাকারীর বিনা অনুমতিতে তার কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা। যারা এই কাজ করে থাকে তাদেরকে বলা হয় কম্পিউটার হ্যাকার বা ক্র্যাকার। নানাবিধ কারণে একজন হ্যাকার অন্যের কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এর মধ্যে টাকা আয়, প্রতিবাদ কিংবা চ্যালেঞ্জ করার বিষয়ও রয়েছে। তবে অনেক কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞগণ হ্যাকারদের অসৎ অনুপ্রবেশকারী বলতে চান না। তারা অসৎ উদ্দেশ্য অনুপ্রবেশকারীদের ক্র্যাকার হিসাবে চিহ্নিত করতে পছন্দ করেন। তবে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে বিনা অনুমতিতে অনুপ্রবেশকারীকে সাধারণভাবে হ্যাকারাই বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এটি অপরাধ। তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশােধিত ২০০৯) অনুসারে হ্যাকিংয়ের জন্য ৩ থেকে ৭ বছর করাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রশ্ন-২৮। পাসওয়ার্ডের গােপনীয়তা রক্ষা করার জন্য কী কী করা উচিত?

অথবা, পাসওয়ার্ড কী? পাসওয়ার্ডের গােপনীয়তা রক্ষা করার কৌশলগুলাে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: অনলাইন নেটওয়ার্ক সিস্টেমে বা কোনাে ডিভাইসে প্রবেশের সময় ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করার জন্য যে বিশেষ বা গােপনীয় শব্দবর্ণ, চিহ্ন অক্ষরের সমষ্টি ব্যবহৃত হয় তাকে Password বলে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে সকল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি তার গােপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। নিচে পাসওয়ার্ড রক্ষা করার কৌশল ব্যাখ্যা করা হলােঃ

i.সংক্ষিপ্ত পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।

ii.বিভিন্ন ধরনের ছােট এবং বড় হাতের বর্ণ ব্যবহার করা। যেমনঃ 226al [email protected]!

iii.শব্দ, বাক্য, সংখ্যা এবং প্রতীকের সমন্বয়ে গঠিত জটিল পাসওয়ার্ড – ব্যবহার করা।

iv.অনলাইনে পাসওয়ার্ডের শক্তিমাত্ৰা যাচাই করা। শক্তিমাত্রা কম হলে তা বাড়িয়ে নেওয়া।

v.সাইবার ক্যাফে বা অন্য কোনাে প্রতিষ্ঠানে সিস্টেম ব্যবহার করলে আসন ত্যাগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সাইট থেকে লগ আউট করা।

vi.lastpass, keepass ইত্যাদি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা।

vii.নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা।

প্রশ্ন-২৯।এন্টি-ভাইরাস কী? ম্যালওয়্যার ভাইরাস ও হ্যাকিং সম্পর্কে তুলনামূলক আলােচনা করাে।

উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস, ওয়ার্ম কিংবা ট্রোজান হর্স ইত্যাদি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য যে সকল প্রােগ্রাম ব্যবহার করা হয় তাকে এন্টিম্যালওয়্যার বা এন্টি-ভাইরাস বলে।

ম্যালওয়্যার ভাইরাস ও হ্যাকিং উভয় মানুষ কর্তৃক সৃষ্টি এবং এক, ধরনের অপরাধমূলক কাজ। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলােচনা করা হলাে:

ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যারকে সংক্ষেপে ম্যালওয়্যার বলা হয়। ম্যালওয়্যার এক ধরনের ভাইরাস। যা কিনা সফটওয়্যারকে কাঙিক্ষত কর্মসম্পাদনের বাধার সৃষ্টি করে। এ বাধা অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার উভয়ের জন্য হতে পারে। শুধু বাধার সৃষ্টি করে তা নয়, কোনাে কোনাে ম্যালওয়্যার ভাইরাস কম্পিউটারের রক্ষিত তথ্য চুরি করে। এ রুপ এক ধরনের ভাইরাস হচ্ছে ট্রোর্জান হর্স। ট্রোজান হর্স ব্যবহারকারীর অজান্তে কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের ক্ষতি সাধান বা তথ্য চুরি করে। অনেক অসৎ প্রােগ্রামার থাকেন যারা এই ধরনের ক্ষতিকর প্রােগ্রাম তৈরি করে অন্যের সিস্টেমের ক্ষতি করেন। এটি এক ধরনের অপরাধ।

অপরদিকে হ্যাকিং বলতে বােঝায় কর্তৃপক্ষের বা ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতে তার কম্পিউটার সিস্টেমে বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। যারা হ্যাকিং করে তাদেরকে হ্যাকার বলা হয়। হ্যাকাররা সাধারণত হ্যাকিং করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রােগ্রাম তৈরি করে থাকেন। এ ক্ষতিকর প্রােগ্রামগুলাে ভাইরাসের মতাে আচরণ করে সিস্টেমের তথ্য চুরি করতে হ্যাকারকে সহায়তা প্রদান করে। এভাবে একজন হ্যাকার ধীরে ধীরে অন্যের সিস্টেমের তথ্য জেনে সিস্টেম হ্যাক করে। যেহেতু এটি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তাই হ্যাকিংও অপরাধমূলক কাজ।

প্রশ্ন-৩০। বিভিন্ন প্রকার হ্যাকার সম্প্রদায় সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করাে। 

উত্তর: বিভিন্ন প্রকার হ্যাকার সম্প্রদায় হলাে—

১.হােয়াইট হ্যাট হ্যাকার, 

২.ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার,

৩. গ্রে হ্যাট হ্যাকার।

১. হােয়াইট হ্যাট হ্যাকার: যে সকল হ্যাকার কোনাে সিস্টেমের উন্নতির জন্য উক্ত সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটিসমূহ খুঁজে বের করে তাকে এথিক্যাল হ্যাকার বা হােয়াইট হ্যাট হ্যাকার বলে।

২. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার: ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারের কাজ হচ্ছে অবৈধভাবে কোনাে ব্যবহারকারীর কম্পিউটার সিস্টেমে বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করা।

৩. গ্রে হ্যাট হ্যাকার: গ্রে হ্যাট হ্যাকার হচ্ছে হােয়াট হ্যাট হ্যাকার এবং ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারের মাঝামাঝি পর্যায়ভুক্ত। এই ধরনের হ্যাকাররা কখনও হ্যাকিং করে ভালাে করার উদ্দেশ্যে আবার কখনও কখনও হ্যাকিং করে থাকে ব্যবহারকারীর ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশ্যে।



প্রশ্ন-৩১। সাইবার অপরাধ কী? “অপরাধীরা সাইবার অপরাধ করার জন্য নিত্যনতুন পথ আবিষ্কার করে যাচ্ছে”- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে যে অপরাধসমূহ হয় তাকে বলা হয় সাইবার অপরাধ ।

যারা সাইবার অপরাধ করে তারা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। সাইরাব অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সাইবার অপরাধ করে থাকে। সাইবার অপরাধীরা সাইবার অপরাধ করার জন্য নিত্যনতুন পথ আবিষ্কার করেন সেগুলাে নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলােস্প্যাম: স্প্যাম হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা অপ্রয়ােজনীয়, উদ্দেশ্যমূলক কিংবা আপত্তিকর ইমেইল, যেগুলাে প্রতি মুহূর্তে পাঠানাে হচ্ছে। স্প্যামের আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সবার অনেক সময় এবং সম্পদের অপচয় হয়।

প্রতারণা: সাইবার অপরাধের একটি বড় অংশ হচ্ছে প্রতারণা। ভুল পরিচয় এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নানাভাবে যােগাযােগ করা হয় এবং তাদেরকে নানাভাবে প্রতারিত করার চেষ্টা করা হয়।

‘আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ: অনেক সময়েই ইন্টারনেটে কোনাে মানুষ সম্পর্কে ভুল কিংবা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হয়। আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করে বিদ্বেষ ছড়ানাের চেষ্টা করায় বাংলাদেশে কয়েকবার ইন্টারনেটে ফেসবুক বা ইউটিউবের মতাে জনপ্রিয় সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

হুমকি প্রদর্শন: ইন্টারনেট, ই-মেইল বা কোনাে একটি সামাজিক যােগাযােগের সাইট ব্যবহার করে কখনাে কখনাে কেউ কোনাে একজনকে নানাভাবে হয়রানি করতে পারে। ইন্টারনেটে যেহেতু একজন মানুষকে সরাসরি অন্য মানুষের মুখােমুখি হতে হয় না, তাই কেউ চাইলে খুব সহজেই আরেকজনকে হুমকি প্রদর্শণ করতে পারে ।

প্রশ্ন-৩২। স্প্যাম সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

উত্তর: স্প্যাম সম্পর্কে সংক্ষেপে নিম্নে আলােচনা করা হলােস্প্যাম হলাে যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা অপ্রয়ােজনীয়, উদ্দেশ্যমূলক বা আপত্তিকর ই-মেইল যা প্রতি মুহূর্তে ই-মেইল ব্যবহারকারীর ইনবক্সে পাঠানাে হচ্ছে। যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা হয় বলে প্রতি মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ স্প্যাম ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে স্প্যামের আঘাত থেকে ইমেইল ব্যবহারকারীগণ নানা ধরনের প্রতিরােধী ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অনেক সময় এবং সম্পদের অপচয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রশ্ন-৩৩। ইন্টারনেট কী? ইন্টারনেটে প্রতারণা বলতে কী বুঝ?

উত্তর: ইন্টারনেট: ইন্টারনেট হলাে নেটওয়ার্কসমূহের নেটওয়ার্ক অর্থাৎ ইন্টারনেট (Internet)-এর শব্দগত বিশ্লেষণ করলে তাকে International Network-এর সংক্ষিপ্ত রূপ বলা যায়।

ইন্টারনেট প্রতারণা: ইন্টারনেটের কারণে আমাদের জীবনে অসংখ্য নতুন নতুন সুযােগ-সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক সেরকম সাইবার অপরাধ নামে সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের অপরাধের জন্ম হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই অপরাধগুলাে করা হয় এবং অপরাধীরা সাইবার অপরাধ করার জন্য নিত্য নতুন পথ আবিষ্কার করে যাচ্ছে। সাইবার অপরাধের একটি বড় অংশ হচ্ছে প্রতারণা। ইন্টারনেটে অনেক মানুষ সাধারণ মানুষের নিকট ভুল পরিচয় বা ভুল তথ্য দিয়ে যােগযােগ করে তাদের প্রতারিত করে এবং সমাজে তাদের। বিভিন্নভাবে মর্যাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে। সাধারণত ইন্টারনেটে মানুষের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলকভাবে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য প্রতারণা করা হয়।

প্রশ্ন-৩৪,। সাইবার অপরাধ কী? চারটি সাইবার অপরাধের ব্যাখ্যা কর।

অথবা, যে অপরাধসমূহ সাইবার অপরাধ হিসেবে পরিগণিত সেগুলাে চিহ্নিত করে।

উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে যে অপরাধসমূহ হয় তাকে বলা হয় সাইবার অপরাধ ।

চারটি সাইবার অপরাধ সম্পর্কে নিম্নে লেখা হলাে:

স্প্যাম: স্প্যাম হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা অপ্রয়ােজনীয়, উদ্দেশ্যমূলক কিংবা আপত্তিকর ইমেইল, যেগুলাে প্রতি মুহূর্তে পাঠানাে হচ্ছে। স্প্যামের আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সবার অনেক সময় এবং সম্পদের অপচয় হয়।

প্রতারণা: সাইবার অপরাধের একটি বড় অংশ হচ্ছে প্রতারণা। ভুল পরিচয় এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নানাভাবে যােগাযােগ করা হয় এবং তাদেরকে নানাভাবে প্রতারিত করার চেষ্টা, করা হয়।

আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ: অনেক সময়েই ইন্টারনেটে কোনাে মানুষ সম্পর্কে ভুল কিংবা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হয়। আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করে বিদ্বেষ ছড়ানাের চেষ্টা করায় বাংলাদেশে কয়েকবার ইন্টারনেটে ফেসবুক বা ইউটিউবের মতাে জনপ্রিয় সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

হুমকি প্রদর্শণ: ইন্টারনেট, ই-মেইল বা কোনাে একটি সামাজিক যােগাযােগের সাইট ব্যবহার করে কখনাে কখনাে কেউ কোনাে একজনকে নানাভাবে হয়রানি করতে পারে। ইন্টারনেটে যেহেতু একজন মানুষকে সরাসরি অন্য মানুষের মুখােমুখি হতে হয় না, তাই কেউ চাইলে খুব সহজেই আরেকজনকে হুমকি প্রদর্শণ করতে পারে।

প্রশ্ন-৩৫। “সাইবার অপরাধ একটি শাস্তিযােগ্য অপরাধ”—ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে যে অপরাধসমূহ হয় তাকে বলা হয় সাইবার অপরাধ । অপরাধীরা সাইবার অপরাধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের নতুন পথ আবিষ্কার করে যাচ্ছে। প্রচলিত কিছু সাইবার অপরাধ হচ্ছে- স্প্যাম, প্রতারণা, ‘আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ, হুমকি প্রদর্শন, সাইবার যুদ্ধ। এ ধরনের অপরাধ অবশ্যই শাস্তিযােগ্য অপরাধ। কেননা, ভুল পরিচয় এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নানাভাবে যােগাযােগ করা হয় এবং তাদেরকে নানাভাবে প্রতারিত করার চেষ্টা করা হয়। যা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। যেহেতু এটি একটি নতুন ধরনের অপরাধ এবং এই অপরাধকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সবাই এখনাে ভালাে করে জানে না। কোন ধরনের অপরাধ হলে কোন ধরনের শাস্তি দিতে হবে, সেই বিষয়গুলাে নিয়ে এখন গবেষণা চলছে।

প্রশ্ন-৩৬। ব্যাংকার অর্থ চুরির বিষয়টি কোন ধরনের আওতায় পড়ে বর্ণনা কর।

উত্তর: ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়টি তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিতে সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ে। তথ্য প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম করা হয়, তাকে বলা হয়— সাইবার অপরাধ। ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়টি যেহেতু সাইবার অপরাধ, তাই দূবৃত্তরা বা অসৎ হ্যাকাররা ব্যাংকের তথ্য ভাণ্ডারে প্রবেশ করে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ক্রেডিট কার্ডের গােপন নম্বর অপরাধীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা স্থানান্তর করে ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি করে থাকে। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার টাকা ডিজিটাল পদ্ধতিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করা হয়। যা একটি ব্যাংকের অর্থ চুরির একটি মারাত্মক সাইবার অপরাধ।

প্রশ্ন-৩৭। তথ্য প্রযুক্তি কীভাবে দুর্নীতি নিরসনের কাজ করছে? দুর্নীতিপরায়ণ প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় না কেন?

অথবা, দুর্নীতি নিরসনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি যেভাবে দুর্নীতি নিরসনে কাজ করছে তা হলাে:

কোনাে প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়া করার পুরাে পদ্ধতিটাকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনার ফলে কোনাে অবৈধ আর্থিক লেনদেন করা হলে সেটি প্রতিষ্ঠানের মূল তথ্যভাণ্ডারে চলে আসে এবং স্বচ্ছতার কারণে সেটি’ অন্যদের চোখের সামনে চলে আসে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে যেকোনাে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিরসন সম্ভব হচ্ছে। দুর্নীতিপরায়ণ মানুষ বা প্রতিষ্ঠান অনেক সময় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় না। কারণ, তথ্যকে সংরক্ষণ, ব্যবহার আর প্রক্রিয়া করার জন্য পুরােপুরি তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আসতে হবে। ফলে দুর্নীতি করে আর্থিক লেনদেন করলে সেটি তথ্য ভান্ডারে চলে যাবে এবং সহজেই সেই দুর্নীতি ধরা যাবে। সে কারণে দুনীতিপরায়ণ লােক বা প্রতিষ্ঠান। অনেক সময় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় না।

প্রশ্ন-৩৮। আজকাল টেন্ডারের পরিবর্তে ই-টেন্ডারের প্রচলন হওয়ার কারণ কি তা ব্যাখ্যা কর?

উত্তর: ই-টেন্ডারিং হচ্ছে ইন্টারনেট নির্ভর টেন্ডার প্রসেসিং। ইটেন্ডারিং-এ টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য, টেন্ডার আহ্বান এবং টেন্ডারের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণসহ যাবতীয় সকল কাজ ওয়েবের মাধ্যমে করা হয়। যে সমস্ত কাজ করতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয় সেগুলাে সাধারণত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টেন্ডারের মাধ্যমে করা হয়। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলাে কাজ করার জন্য লিখিত আবেদন জানায় এবং কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে কাজটি করার জন্য কাউকে বেছে নেয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় দুনীতপরায়ণ প্রতিষ্ঠানগুলাে অন্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজের সুযােগ দিয়ে জোর করে নিজেরাই কাজটি নিয়ে নিত। কিন্তু ই-টেন্ডারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনাে মানুষ বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি উপস্থিত না হয়ে শুধু প্রয়ােজনীয় তথ্যগুলাে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহ করে পুরাে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। ফলে দুর্নীতি করার সুযােগ অনেক কমে গিয়েছে। অর্থাৎ ই-টেন্ডারিং এর মাধ্যমে দুর্নীতি মুক্ত এবং যােগ্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যয়বহুল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রশ্ন-৩৯। ই-টেন্ডারিং সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

উত্তর: ই-টেন্ডারিং হচ্ছে ইন্টারনেট নির্ভর, টেন্ডার প্রসেসিং। ইটেন্ডারিং-এ টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য, টেন্ডার আহ্বান এবং টেন্ডারের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণসহ যাবতীয় সকল কাজ ওয়েবের মাধ্যমে করা হয়।

যে সমস্ত কাজ করতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয় সেগুলাে সাধারণত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টেন্ডারের মাধ্যমে করা হয়। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলাে কাজ করার জন্য লিখিত আবেদন জানায় এবং কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে সাশ্রয়ী। মূল্যে কাজটি করার জন্য কাউকে বেছে নেয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় দুনীতপরায়ণ প্রতিষ্ঠানগুলাে অন্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজের সুযােগ দিয়ে জোর করে নিজেরাই কাজটি নিয়ে নিত। কিন্তু ই-টেন্ডারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনাে মানুষ বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি উপস্থিত না হয়ে শুধু প্রয়ােজনীয় তথ্যগুলাে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহ করে। পুরাে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। ফলে দুর্নীতি করার সুযােগ অনেক কমে গিয়েছে। অর্থাৎ ই-টেন্ডারিং এর মাধ্যমে দুনীতি মুক্ত এবং যােগ্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যয়বহুল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রশ্ন-৪০. তথ্য কী? 

উত্তর: তথ্য অধিকার আইনে তথ্য বলতে কোনাে কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামাে ও দাপ্তরিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত যেকোনাে স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্যউপাত্ত, লগবই, আদেশ, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী, প্রকল্প প্রস্তাব, আলােকচিত্র, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিকে বােঝায়।



প্রশ্ন-৪১। তথ্য অধিকার ও তথ্য আইন সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।

অথবা, তথ্য অধিকার আইন বলতে কী বুঝ? বিস্তারিত আলােচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: রাস্ট্রীয় কার্যাবলির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার অধিকারই হলাে তথ্য অধিকার। আর তথ্য অধিকারের সরকার কর্তৃক নিয়মনীতিকেই তথ্য অধিকার আইন বলা হয়। অর্থাৎ, তথ্য অধিকার আইনে জনগণ কোন কোন তথ্যগুলাে জানতে পারবে আর কোনগুলাে পারবে না এটাকেই তথ্য আইন বলা হয়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৯৩টি দেশে এই জাতীয় তথ্য জানাকে আইনি অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সাল থেকে বলবৎ রয়েছে। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তিকে ব্যক্তির চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার পূর্বশর্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য বলতে কোনাে কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামাে ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যেকোনাে স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, লগবই, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী, প্রকল্প প্রস্তাব, আলােকচিত্র, অডিও, ভিডিও, অতিচিত্র, ফিল্ম, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত যেকোনাে ইনস্ট্রমেন্ট, যান্ত্রিকভাবে পাঠযােগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে অন্য যেকোনাে তথ্যবহ বস্তু বা এদের প্রতিলিপি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, প্রত্যেক দেশে কিছু বিশেষ তথ্যকে এই আইনের আওতা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে। যেমন তােমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষকের সংখ্যা, তােমাদের ফি ইত্যাদি তথ্য জানাটা যেকোনাে নাগরিকের অধিকার। কিন্তু পরীক্ষায় কী প্রশ্ন আসবে তা জানাটা কারাে অধিকার নয়।

প্রশ্ন-৪২। তথ্য অধিকার কী? দুর্নীতি দমনে তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: তথ্য অধিকার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার অধিকারই হলাে তথ্য অধিকার।

দুনীতি দমনে তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকা: দুর্নীতি করা হয় গােপনে। কারণ কোনাে সমাজেই দুর্নীতিকে প্রশয় দেয় না। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি সহজতর হয়েছে। কেননা, কোনাে একটি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও কাঠামােগত ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণ সহজেই জানতে পারছে। ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কখন কী হচ্ছে, করণীয় যাবতীয় কার্যক্রম জানার সুযােগ থাকায়, কর্তৃপক্ষ জবাবদিহীতা করতে হয়। যা তথ্য অধিকার আইনের একটি ফলপ্রসূ। এছাড়াও আজকাল ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি করার সুযােগ কমে গেছে। তথ্য অধিকার আইনে কোনাে কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামাে ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যেকোনাে চুক্তি, তথ্যউপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, হিসাব বিবরণী, সকল তথ্য সমূহ জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে বাধ্য থাকায় ঐ প্রতিষ্ঠান কোনাে ধরনের কারচুপি ও দুনীতি করতে সাহস পায় না। তাই বলা যায়, দুনীতি দমনে তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকা অপরিহার্য।

প্রশ্ন-৪৩। www.infocom.gov.bd ওয়েবসাইটটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানটির কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: wwv.infocom.gov.bd ওয়েব অ্যাড্রেসটি বাংলাদেশ তথ্য কমিশনের কোনাে প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনাে জনগণ যদি তথ্য কমিশনে অভিযােগ করে তাহলে তথ্য কমিশন বিষয়টি তদারক করার ক্ষমতা রাখে। জনগণের অভিযােগ সঠিক হলে তথ্য কমিশন উক্ত কোম্পানিকে আইন অনুযায়ী তথ্য দিতে বাধ্য করতে পারেন। উক্ত কোম্পানি তারপরেও তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের রেজিস্ট্রি বাের্ডে কালাে তালিকাভুক্ত করতে পারেন। এর ফলে সকল প্রতিষ্ঠান যেমন তথ্য দিতে বাধ্য থাকে তেমনি তথ্যগুলাে যেন সঠিক ও নির্ভুল হয় সেইদিকে বিশেষ নজর রাখে।      

Leave a Comment