রূপাই কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। গায়ের চাষার ছেলেটির নাম কী?

উত্তর: গায়ের চাষার ছেলেটির নাম রুপাই।

প্রশ্ন-২। চাষার ছেলের মাথার চুল কেমন?

উত্তর: চাষার ছেলের মাথার চুল লম্বা।

প্রশ্ন-৩। কাঁচা ধানের পাতার মতাে কীসের মায়া?

উত্তর: কাঁচা ধানের পাতার মতাে রুপাইয়ের কচি-মুখের মায়া।

প্রশ্ন-৪। রূপাইয়ের শরীর কেমন ছিল?

উত্তর: রুপাইয়ের শরীর ছিল শ্রাবণ মাসের তমাল গাছের মতাে।

প্রশ্ন-৫। বিজলি মেয়ে কী ছড়িয়ে পিছলে পড়ে?

উত্তর: বিজলি মেয়ে আলাের খেল ছড়িয়ে পিছলে পড়ে।



প্রশ্ন-৬। রুপাই’ কবিতায় দাতের কালির রং কী?

উত্তর: রুপাই’ কবিতায় দাতের কালির রং কালাে।

প্রশ্ন-৭। কালাে দাতের কী দিয়ে কবি কেতাব কোরান লেখেন? 

উত্তর: কালাে দাতের কালি দিয়ে কবি কেতাব কোরান লেখেন।

প্রশ্ন-৮। রুপাই’ কবিতয় রং পেলে কী গড়তে পারার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: রুপাই’ কবিতয় রং পেলে রামধনুকের হার গড়তে পারার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৯। রুপাই’ কবিতায় চাষির ছেলের বরন কেমন?

উত্তর: রুপাই’ কবিতায় চাষির ছেলের বরন কালাে।

প্রশ্ন-১০। খেলার দলে কাকে নিয়ে সবার টানাটানি হয়?

উত্তর: খেলার দলে রুপাইকে নিয়ে সবার টানাটানি হয়।



প্রশ্ন-১১। কোন গানে রূপাইয়ের গলা সবার আগে ওঠে?

উত্তর: জরিগানে রুপাইয়ের গলা সবার আগে ওঠে।

প্রশ্ন-১২। রুপাইকে পাগাল লােহা বলেছে কারা?

উত্তর: রুপাইকে পাগাল লােহা বলেছে বুড়ােরা।

প্রশ্ন-১৩। রুপাই কবিতায় বাপের বেটা বলা হয়েছে কাকে?

উত্তর: রুপাই’ কবিতায় বাপের বেটা বলা হয়েছে রুপাইকে।

প্রশ্ন-১৪। রুপাই কীসের চেয়ে দামি?

উত্তর: রুপাই রুপার চেয়ে দামি।

প্রশ্ন-১৫। এককালে কার নামে সকল গ্রাম খ্যাতি পাবে?

উত্তর: এককালে রুপাইয়ের নামে সকল গ্রাম খ্যাতি পাবে।



প্রশ্ন-১৬। জালি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘জালিশব্দের অর্থ কচি।

প্রশ্ন-১৭। ‘শাওন’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: শাওন’ শব্দের অর্থ শ্রাবণ।

প্রশ্ন-১৮। কালাে দাত’ বলতে কী বােঝায়?

উত্তর: কালাে দাত’ বলতে কালি রাখার কালাে পাত্রকে বােঝায়।

প্রশ্ন-১৯। রুপাই’ কবিতায় গলার হার হিসেবে কোনটিকে কল্পনা করা হয়েছে?

উত্তর: ‘রুপাই’ কবিতায় গলার হার হিসেবে অর্ধবৃত্তাকার রংধনুকে কল্পনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন-২০। ‘পদ-রজ’ মানে কী?

উত্তর: ‘পদ-জ’ মানে পায়ের ধুলা।



প্রশ্ন-২১। ‘সিনা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘সিনা’ শব্দের অর্থ গােসল।

প্রশ্ন-২২। আখড়া কী? 

উত্তর: আখড়া হলাে নৃত্যগীত শিক্ষণ ও মূল্পবিদ্যা অভ্যাসের স্থান।

প্রশ্ন-২৩। ‘শাল-সুন্দি-বেত’ কী?

উত্তর: ‘শাল-সুন্দি-বেত’ বলতে একত্রে বিবিধ কাজের প্রয়ােজনীয় উপকরণকে বােঝানাে হয়েছে।

প্রশ্ন-২৪। রুপাই’ কবিতায় উল্লিখিত ‘পাগাল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘রূপাই’ কবিতায় উল্লিখিত ‘পাগাল’ শব্দের অর্থ ইস্পাত।

প্রশ্ন-২৫। রুপাই’ কবিতাটি কার লেখা?

উত্তর: রুপাই’ কবিতাটি জসীমউদ্দীনের লেখা।



প্রশ্ন-২৬। রুপাই’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: রুপাই’ কবিতাটি নক্সী কাঁথার মাঠ’ কাহিনিকাব্যের অন্তর্গত।

প্রশ্ন-২৭। রুপাই’ কবিতায় কবি কোন দিকটি অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন?

উত্তর: রুপাই’ কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষককের রূপ ও কর্মোদ্যোগের দিকটি অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন-২৮। কৃষকের বাহু দুইখানি কীসের মতাে বলে মনে হয়?

উত্তর: কৃষকের বাহু দুইখানি জালি লাউয়ের কচি ডগার মতাে বলে মনে হয়।

প্রশ্ন-২৯। কৃষকের শরীরের রং কীসে পুড়ে কালাে হয়?

উত্তর: কৃষকের শরীরের রং রােদে পুড়ে কালাে হয়।

প্রশ্ন-৩০। রুপাই কবিতায় জীবন’-এর রং কী? 

উত্তর: ‘রুপাই’ কবিতায় জীবন’-এর রং কালাে।



প্রশ্ন-৩১। কবি মরণকে কোন রঙের সাথে তুলনা করেছেন?

উত্তর:কবি মরণকে কালাে রঙের সাথে তুলনা করেছেন।

প্রশ্ন-৩২। কে সব জয় করেছে?

উত্তর: চাষিদের ওই কালাে ছেলে সব জয় করেছে।

প্রশ্ন-৩৩। কবির মতে, কার শ্রমে সভ্যতার ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর: কবির মতে, কৃষকের শ্রমে সভ্যতার ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন-৩৪। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কার সবকিছুই কালাে?

উত্তর: জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কৃষকের সবকিছু কালাে।

প্রশ্ন-৩৫। কবির দৃষ্টিতে, কৃষক সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে কী কারণে?

উত্তর: কবির দৃষ্টিতে, কৃষক সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে সকল কাজে পারদর্শী হওয়ার কারণে।



প্রশ্ন-৩৬। কবি জসীমউদদীন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৭। কবি জসীমউদ্দীন কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: কবি জসীমউদদীন তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৮। কবি জসীমউদদীন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন?

উত্তর: কবি জসীমউদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন।

প্রশ্ন-৩৯। কর্মজীবনের শুরুতে জসীমউদদীন কয় বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন?

উত্তর: কর্মজীবনের শুরুতে জসীমউদ্দীন পাঁচ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন।

প্রশ্ন-৪০। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় জসীমউদ্দীনের কোন কবিতাটি প্রশংসিত হয়?

উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতাটি প্রশংসিত হয়।



প্রশ্ন-৪১। জসীমউদ্দীনের কবিতায় আমরা কীসের সহজ-সুন্দর রূপটি দেখতে পাই?

উত্তর: জসীমউদ্দীনের কবিতায় আমরা পল্লির মানুষ ও প্রকৃতির সহজসুন্দর রূপটি দেখতে পাই।

প্রশ্ন-৪২। ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ কী ধরনের রচনা?

উত্তর: ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ একটি কাহিনিকাব্য।

প্রশ্ন-৪৩। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জসীমউদ্দীন কোন সম্মানসূচক ডিগ্রি পান?

উত্তর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জসীমউদ্দীন সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পান।

প্রশ্ন-৪৪। জসীমউদ্দীন কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর: জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।



 

রূপাই কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। ‘গা খানি তার শাওন মাসের যেমন তমাল তরু’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখাে।

উত্তর: প্রশ্নোত্ত চরণটির মধ্যে দিয়ে কবি রুপাইয়ের দেহসৌষ্ঠবের দিকটি তুলে ধরেছেন।

তমাল গাছের কাণ্ড গাঢ় কালাে রঙের। শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিতে ভিজে তা অপূর্ব সুন্দর রূপ ধারণ করে। কালাে রূপাইয়ের শরীরও যেন বর্ষণসিক্ত তমাল গাছের মতােই সতেজ ও আকর্ষণীয়। রুপাইয়ের দেহের সৌন্দর্যকে উপমিত করতেই কবি শাওন মাসের তমাল তরুর প্রসঙ্গ এনেছেন।

প্রশ্ন-২। কচি ধানের তুলতে চারা হয়ত কোনাে চাষি, মুখে তাহার জড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি বােঝানাে হয়েছে? ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: রুপাই-এর চোখেমুখে লেগে থাকা অপূর্ব হাসিকে ধানের চারা তুলতে থাকা চাষির হাসির সঙ্গে তুলনা করে এ কথা বলা হয়েছে।

রুপাই এর লাবণ্যমাখা মুখাবয়বে সবসময় থাকে অসাধারণ এক হাসি। রুপাইয়ের সে হাসি কৃত্রিম নয়। কচি ধানের চারা তােলার সময় পুলকিত চাষির মনে এক ধরনের আনন্দ জাগে। সে আনন্দ এক টুকরাে হাসি হয়ে ছড়িয়ে থাকে তার মুখে। রুপাইয়ের হাসির সঙ্গে সে হাসির তুলনা চলে। আর এ কথাই বােঝানাে হয়েছে আলােচ্য পঙক্তিদ্বয়ে।

প্রশ্ন-৩। কালাে দাতের কালি দিয়েই কেতাব কোরান লেখি’– চরণদ্বয়ে কী কী বােঝানাে হয়েছে?

উত্তর: কালাে কালি দিয়েই সে পৃথিবীর সমস্ত কেতাব বা গ্রন্থ লেখা হয়ে থাকে তা বােঝানাে হয়েছে আলােচ্য চরণটিতে।

রুপাই কবিতায় রূপাইয়ের গায়ের রং কালাে। কিন্তু কালাে রং-কে অবহেলা করার সুযােগ নেই। কারণ কালাে চোখ দিয়েই আমরা এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখি। তেমনি দোয়াতের কালাে কালি দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত কেতাব বা গ্রন্থ লেখা হয়ে থাকে। আর তাই বলা হয়েছেকালাে দাতের কালি দিয়েই কেতাব কোরান লেখি।

প্রশ্ন-৪। সেই কালােতে সিনান করি উজল তাহার গাও’— কথাটি ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: প্রকৃতির সাথে রূপাইয়ের গভীর সংযােগের দিকটিই উঠে এসেছে আলােচ্য কথাটিতে।

রুপাই যে গ্রামে থাকে সেটি সবুজ শ্যামল । দূর থেকে দেখলে ছায়ামাখা সেই গ্রামকে কালাে বলে মনে হয় । রুপাই যে ধানের ক্ষেতে কাজ করে সেটিও শ্যামল বর্ণের। ধানের ক্ষেতকেও স্বল্প আলােতে কালােই মনে হয়। এই গ্রাম ও.ক্ষেতের সাথে রুপাইয়ের রয়েছে প্রাণের বন্ধন। প্রকৃতির সৌন্দর্য ধারণ করেই যেন রুপাইয়ের অস্তিত্ব আলােকিত হয়েছে।



প্রশ্ন-৫। ‘আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী’— বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

উত্তর: আলােচ্য পর্ভূক্তিটিতে আখড়াতে রুপাইয়ের লাঠি খেলার পারদর্শিতার বিষয়টি বােঝানাে হয়েছে।

লাঠি খেলাতে রুপাই ছিল খুবই দক্ষ। ফলে আখড়াতে লাঠি খেলায় সে সকলকে হারিয়ে দিতে পারত। লাঠি খেলায় পারদর্শিতা থাকার কারণে সবাই তাকে মান্য করত। আর এ কারণে সে সবার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রশ্ন-৬। রুপাইকে বাপের বেটা বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: রুপাই সব কাজে সমান পারদশী বলে তাকে বাপের বেটা বলা হয়েছে।

রুপাই’ কবিতার রুপাই সব ধরনের কাজে পারদশী। কৃষিকাজ, লাঠি খেলা, জারিগানের আসর সব জায়গায় রুপাইকে পাওয়া যায়। এছাড়া যেকোনাে পরিশ্রমের কাজ হলেও রুপাইকে পাওয়া যায়। এই পরােপকারী মনােভাব আর সব কাজে পারদর্শী হওয়ার কারণে রুপাইকে বাপের বেটা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৭। রুপাইকে রুপার চেয়ে দামি বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: রুপাইয়ের অসাধারণ গুণের জন্য তাকে রুপার চেয়ে দামি বলা হয়েছে।

গ্রাম-বাংলার এক কৃষকের ছেলে রুপাই। রূপে-গুণে, কর্মে অসাধারণ রুপাই গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এক তরুণ কৃষক। রােদে পুড়ে ফসল ফলায় বুলে তার গায়ের রং কালাে। কিন্তু কালাে হলেও রুপাইয়ের মায়াভরা চেহারা আর কর্মের গুণ সবার মন জয় করেছে। রূপাইয়ের নামেই একদিন সব গ্রাম জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে কবি মনে করেন। তাই রুপাইকে রুপার চেয়েও দামি বলা হয়েছে।

Leave a Comment