ভাব ও কাজ প্রবন্ধের জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। লেখক ভাবকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?

উত্তর: লেখক ভাবকে ‘পুষ্পবিহীন সৌরভের সাথে তুলনা করেছেন,

প্রশ্ন-২। ‘ভাব ও কাল’ প্রবন্ধে কোন জিনিসটিকে অবাস্তব, উচ্ছাস বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে ভাবকে অবাস্তব উচ্ছাস বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৩। কবি ভাবকে কীসের দাস করার কথা বলেছেন?

উত্তর: কবি ভাবকে কাজের দাস করার কথা বলেছেন।

প্রশ্ন-৪। মানুষকে মাতিয়ে তােলা যায় কী দিয়ে?

উত্তর: মানুষকে মাতিয়ে তােলা যায় ভাব দিয়ে।

প্রশ্ন-৫। ভাবকে কীসের দাস হিসেবে নিয়ােগ করতে না পারলে ভাবের কোনাে সার্থকতা থাকে না?

উত্তর: ভাবকে কাজের দাস হিসেবে নিয়ােগ করতে না পারলে ভাবের কোনাে সার্থকতা থাকে না।

প্রশ্ন-৬। যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাকে কেমন হতে হবে?

উত্তর: যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাকে হতে হবে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি ।

প্রশ্ন-৭। ভাবের বাঁশিবাদককে মানুষের ভাবকে জাগিয়ে তুলতে হবে কীসের উদ্দেশ্যে?

উত্তর: ভবের বাঁশিবাদককে মানুষের ভাবকে জাগিয়ে তুলতে হবে মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে।

প্রশ্ন-৮। কাকে কেউ জাগিয়ে তুলতে পারে না?

উত্তর: যে জেগে থেকেও ঘুমায় তাকে কেউ জাগিয়ে তুলতে পারে না।

প্রশ্ন-৯। মানুষকে মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় কোনটি?

উত্তর: মানুষকে মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য।

প্রশ্ন-১০। ঢোল, কাসি বাজিয়ে কার ঘুম ভাঙাতে হয়েছিল?

উত্তর: ঢােল, কাসি বাজিয়ে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙাতে হয়েছিল।

প্রশ্ন-১১। লােকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দেওয়া কী?

উত্তর: লােকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দেওয়া পাপ।

প্রশ্ন-১২। মানুষকে, সােনার কাঠির ছোঁয়া দিয়ে জাগিয়ে তােলার আগে কী তৈরি রাখতে হবে?

উত্তর: মানুষকে সােনার কাঠির ছোঁয়া দিয়ে জাগিয়ে তােলার আগে কার্যকের তৈরি রাখতে হবে।

প্রশ্ন-১৩। কুম্ভকর্ণের ঘুম কীভাবে ভাঙাননা বিচিত্র নয়?

উত্তর: কুম্ভকর্ণের ঘুম ঢােল-কাসি বাজিয়ে ভাঙাননা বিচিত্র নয়।

প্রশ্ন-১৪। ভাবের সুরা পান করে কী হারানাে যাবে না?

উত্তর: ভাবের সুরা পান করে জ্ঞান হারানাে যাবে না।

প্রশ্ন-১৫। কর্মে শক্তি আনার জন্য কী করতে হবে?

উত্তর:কর্মে শক্তি আনার জন্য ভাৰ-সাধনা করতে হবে।

প্রশ্ন-১৬। ‘ভাব ও কাজ’ নিবন্ধে কোন শক্তিকে জাগিয়ে তােলার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ’ নিবন্ধে স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১৭। ‘ভাব ও কাজ’ নিবন্ধে প্রাবন্ধিক কীসের মতাে কিছু না বুঝে পেছন ধরে চলতে নিষেধ করেছেন?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ’ নিবন্ধে প্রাবন্ধিক ভেড়ার মতাে কিছু না বুঝে পেছন ধরে চলতে নিষেধ করেছেন।

প্রশ্ন-১৮। কী দেশকে উন্নতি ও মুক্তির দিকে এগিয়ে নেবে?

উত্তর: ব্যক্তিস্বাতন্য দেশকে উন্নতি ও মুক্তির দিকে এগিয়ে নেবে।

প্রশ্ন-১৯। কোন বিষয় বিবেচনা করে কাজে নামলে উৎসাহ অনর্থক নষ্ট হবে না? 

উত্তর: কালের সম্ভাবনা-অসম্ভাবনার কথা অগ্রে বিবেচনা করে কাজে নামলে উৎসাহ অনর্থক নষ্ট হবে না।

প্রশ্ন-২০। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কোনটিকে ‘মহাপাপ’ বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে আত্মার শক্তিকে অন্যের প্ররােচনায় নষ্ট করাকে মহাপাপ বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-২১. ‘দাদ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘দাদ’ শব্দের অর্থ— ‘প্রতিশােধ’।

প্রশ্ন-২২. ‘কপূর’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: কপূর” শব্দের অর্থ বৃক্ষস থেকে তৈরি গন্ধদ্রব্য বিশেষ।

প্রশ্ন-২৩। বন্যা যা বা যাদেরকে ভাসিয়ে আনে তাদেরকে কী বলে?

উত্তর: বন্যা যা বা যাদেরকে ভাসিয়ে আনে তাদেরকে বানভাসি বলে।

প্রশ্ন-২৪। কুম্ভকর্ণ কে?

উত্তর: কুকর্ণ রাবণের ছােট ভাই।

প্রশ্ন-২৫। ‘হুজুগ’ অর্থ কী?

উত্তর: “হুজুগ অর্থ জনরব।

প্রশ্ন-২৬। ‘লা-পরওয়া’ শব্দটির অর্থ কী?

উত্তর: লা-পরওয়া’ শব্দটির অর্থ হলাে গ্রাহ্য না করা।

প্রশ্ন-২৭। ‘স্পিরিট’ শব্দের অর্থ কী? 

উত্তর: স্পিরিট’ শব্দের অর্থ আত্মার শক্তির পবিত্রতা।

প্রশ্ন-২৮। ‘সুবর্ণ” শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: সুবর্ণ’ শব্দের অর্থ হলাে সােনা।

প্রশ্ন-২৯। ‘পুয়াল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘পুয়াল’ শব্দের অর্থ “খড়’।

প্রশ্ন-৩০। ‘প্ররােচনা’ শব্দটির অর্থ কী?

উত্তর: ‘প্ররােচনা’ শব্দটির অর্থ উসকানি।

প্রশ্ন-৩১। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটি কে লিখেছেন?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ প্রবন্ধটি লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।

প্রশ্ন-৩২। ‘ভাব ও কাজ’ কী ধরনের রচনা?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ হলাে একটি প্রবন্ধ।

প্রশ্ন-৩৩। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কীসের গুরুত্ব অপরিসীম?

উত্তর: মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন-৩৪। কীসের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তােলা যায়?

উত্তর: ডাবের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তােলা যায়।

প্রশ্ন-৩৫। ভালাে উদ্যোগ নষ্ট হয় কীসের অভাবে?

উত্তর: ভালাে উদ্যোগ নষ্ট হয় যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহার অভাবে।

প্রশ্ন-৩৬। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক ভাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কেন?

উত্তর: ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ডাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়ার ওপর জাের দিয়েছেন।

প্রশ্ন-৩৭। কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৮। কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম বর্ধমান জেলার আসানসােল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৯। কত খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়?

উত্তর: ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন-ভেঙে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন-৪০। বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 

উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন-৪১। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় কীসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে।

প্রশ্ন-৪২। কাজী নজরুল ইসলাম কত বছর বয়সে দুরারােগ্য রােগে আক্রান্ত হন?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম তেতাল্লিশ বছর বয়সে দুরারােগ্য রােগে আক্রান্ত হন।

প্রশ্ন-৪৩। কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

প্রশ্ন-৪৪। কাজী নজরুল ইসলাম কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। ‘ভাব জিনিসটা হচ্ছে পুষ্পবিহীন সৌরভের মতাে ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: ভাবের বিমূর্ত রূপকে উন্মােচিত করতে লেখক আলােচ্য উক্তিটির অবতারণা করেছেন।’

‘ভাব’ জিনিসটাকে দেখা বা স্পর্শ করা যায় না। কিন্তু মানুষের জীবনে এর উপস্থিতি অনুভব করা যায়। ভাবের দ্বারা আবিষ্ট হয়েই মানুষ বিভিন্ন কাজে উৎসাহী হয়ে ওঠে। ভাব বিমূর্ত হলেও তার ভূমিকা দৃশ্যমান— এ বিষয়টি বােঝাতেই লেখক আলােচ্য উক্তিটি করেছেন।

প্রশ্ন-২। ভাবকে ‘অবাস্তব উচ্ছাস’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: মনের কল্পনা থেকে ডাৰ সাময়িক উত্তেজনা প্রকাশ করে বলেই ভাবকে অবাস্তব উচ্ছাস বলা হয়েছে।

মানুষের মন স্বভাবতই কল্পনাপ্রবণ ও স্বপ্নবিলাসী। এই কল্পনা মানুষের মধ্যে সাময়িক একটি প্রণােদনা সৃষ্টি করে। লেখক এই প্রণােদনাকেই বলেছেন ভাব; যা পরিপূর্ণ হয় কাজের মাধ্যমে। কাজবিহীন ভাবের কোনাে বাস্তবিক স্থান নেই। সে কারণে লেখক একে অবাস্তব উচ্ছাস বলেছে।

প্রশ্ন-৩। গরমাগরম কার্যসিদ্ধি’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: গরমাগরম কার্যসিদ্ধি বলতে লেখক ভাববাদয়ের পর তাৎক্ষণিক কর্মসম্পাদনের বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।

ভাবকে কাজের দাসরূপে নিয়ােগ করতে না পারলে তার কোনাে সার্থকতা থাকে না। ভাব দিয়ে লােককে মাতিয়ে তােলা যায়, কিন্তু তাকে যথাযথ কাজে লাগাতে না পারলে সেই ভাব নেতিয়ে পড়ে। তাই ভাব সারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে কর্মে রূপ দেবার কাজে ব্রতী হতে হবে। এ বিষয়টিকেই কবি ‘গরমাগরম কার্যসিদ্ধি’ বলেছেন।

প্রশ্ন-৪। এখানে কার্যসিদ্ধি মানে কার্যসিদ্ধি নয়’- কথাটি বুঝিয়ে লেখাে।

উত্তর: নিজের স্বার্থসিদ্ধি যে প্রকৃত কার্যসিদ্ধি নয়, তা বােঝাতেই লেখক প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছেন।

কার্যসিদ্ধির জন্য ভাবের প্রয়ােজন আছে। কিন্তু কেবল ভাবাবেগে লােকদের জাগিয়ে তুলে নিজের স্বার্থসিদ্ধি প্রকৃত কার্যসিদ্ধি নয়। কার্যসিদ্ধি করতে হবে মানবকল্যাণের জন্য। মহত্তর উদ্দেশ্য ও কল্যাণ কামনায় ভাবকে কাজে পরিণত করতে হবে। কার্যক্ষেত্র তৈরির জন্য লােকদের ভাবের সােনার কাঠি ছুইয়ে দিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। আলােচ্য উক্তিতে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়ার প্রতি গুরুত্বারােপ করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৫। ভাবের বাঁশিবাদককে কী ধরনের যােগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে?

উত্তর: ভবের বাঁশিবাদককে কল্যাণকামী ও ত্যাগী মানসিকতার অধিকরী হতে হবে।

ভাবের বাঁশিবাদক বলতে সেই মানুষকে বােঝানাে যে অন্য মানুষদের ভাবের দ্বারা জাগ্রত করে কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে উদ্বুদ্ধ সক্ষম হবেন। এছাড়া ভাবের বাঁশিবাদককে নিঃস্বার্থ ত্যাগ ঋষির মতাে হতে হবে। তার লক্ষ্য হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণ, নিজের স্বার্থসিদ্ধি করা নয়। মহত্তম উদ্দেশ্য ও কল্যাণ কামনা ছাড়া যদি সে মানুষকে অসৎ উদ্দেশ্যে জাগ্রত করে, তাহলে সমাজ ও দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এ কারণেই ভাবের বাঁশিবাদককে হতে হবে কল্যাণকামী, নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী মানুষ।

প্রশ্ন-৬। তাহা অপেক্ষা বরং কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভালাে, সে-ঘুম ঢােল কাসি বালাইয়া ভাঙানাে বিচিত্র নয়’- ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: একবার উৎসাহ হারিয়ে ফেললে মানুষ আর কাজ করার আগ্রহ পায় না, তাকে কালে নামানাে তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়ায়।

মানুষকে উৎসাহ প্রদানের আগে অবশ্যই কার্যসিদ্ধির পথ সুগম করে রাখতে হবে। কারণ উৎসাহ পেয়েও কাজের যথাযথ সুযােগ না পেলে তার মাঝে আর কাজ করার কোনাে আগ্রহ অবশিষ্ট থাকে না। উচ্চশব্দের মাধ্যমে কুম্ভকর্ণের দীর্ঘ ঘুম ভাঙানাে গেলেও নিরুৎসাহী ব্যক্তির মাঝে উৎসাহ ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব কাজ। এ বিষয়টিই আলােচ্য উক্তিতে নির্দেশিত হয়েছে।

প্রশ্ন-৭। স্পিরিট বা আত্মার শক্তির পবিত্রতা নষ্ট হয় কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ডাবের দ্বারা জাগ্রত হয়ে কমোদ্যোগী হতে না পারলে আবার শক্তির পবিত্রতা নষ্ট হয়।

মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু অনেক সময় মানুষ ভাব দ্বারা জাগ্রত হয় কিন্তু যথাযথ কর্ম পরিকল্পনা করে না। এতে করে ভালাে উদ্যোগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এভাবে মানুষ যখন ভাবের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হয় তখন উপযুক্ত কাজটি করতে ব্যর্থ হয়। আর তখনই আত্মার শক্তির পবিত্রতা নষ্ট হয়।

প্রশ্ন-৮। প্রাবন্ধিক তরুণদের দেশের প্রাণশক্তি বলেছেন কেন?

উত্তর: তরুণরা তাদের তারুণ্যের শক্তি দিয়ে দেশ ও জাতি কল্যাণ সাধন করতে পারে বলে প্রাবন্ধিক তাদের দেশের প্রাণশক্তি বলেছেন।

তরুণরা নানা রকম ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তাদের সাহস, গতি, মনােবল, শক্তি, উন্নয়নমূলক কর্মে স্বতঃস্ফূর্ততা সবকিছুই অতুলনীয়। তাদের এই বৈশিষ্ট্যসমূহকে কাজে লাগাতে পারলে তারা অসাধ্য সাধন করতে পারে। কল্যাণমূলক কাজ করে সমাজ ও জাতির অভূতপূর্ব উন্নয়নসাধন করতে পারে। তাই আলােচ্য প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিক তরুণদের দেশের প্রাণশক্তি বলেছেন।

প্রশ্ন-৯। সাপ লইয়া খেলা করিতে গেলে তাহাকে দস্তুরমতাে সাপুড়ে হওয়া চাই’- ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: যে কোনাে কাজে নামার পূর্বে এই বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা আবশ্যক।

ভাব ও কাজের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। কেবল আবেগের বশে কঠিন কোনাে কাজে নেমে পড়লে তাতে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করা যায় না। সাফল্যের জন্য প্রয়ােজন কাজটি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। সুধু পরিকল্পনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া কাজে নামলে অনেক সময় ভালাে উদ্যোগও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কাজকে দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাযথ পরিকল্পনা এবং ওই বিষয়ের দক্ষতা অর্জন করা প্রয়ােজন। প্রশ্নোত্ত বাক্যটিতে এ কথাই বােঝানাে হয়েছে।

Leave a Comment