পড়ে পাওয়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। সােনালী ব্যাংকের পিয়ন রতন অফিস ছুটি হওয়ার পর ম্যানেজারের রুম গােছাতে গিয়ে একটি সােনার আংটি পায়। আংটি পেয়ে তার খুব লােভ হলাে, সে মনে মনে ভাবল তার মেয়েকে এটা উপহার হিসেবে দেবে। কিন্তু ঘটনাটি তার মনের মধ্যে অপরাধবােধের জন্ম দিল। তাই সে পরদিন অফিসে গিয়ে ম্যানেজারের নিকট আংটিটি ফেরত দিয়ে ভারমুক্ত হলাে। ম্যানেজারও তার সততায় খুশি হয়ে থাকে পুরস্কৃত করলেন।

ক. বােষ্টম কী?

খ. ওর মতাে কত লােক আসবে’- উক্তিটি দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের রতন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কার প্রতিনিধিত্ব করে এবং কীভাবে?

ঘ. উদ্দীপক এবং গল্পের মূলভাব কর্তব্যপরায়ণতা এবং নৈতিক চেতনার-ই পরিচায়ক’- উক্তিটি বিশ্লেষণ করাে।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। বােষ্টম হলাে- হরিনাম সংকীর্তন করে জীবিকা অর্জন করে এমন বৈষ্ণব।

খ। বাক্সের দাবি করতে আসা একজন নকল মালিব করে বিধু মন্তব্যটি করেছিল।

পড়ে পাওয়া বাক্সটি সঠিক মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিতে ছেলেরা একটি বিজ্ঞপ্তি লিখে নদীর ধারে বিভিন্ন গাছে আটকে দেয়। তখন লােভে পড়ে এক লােক মালিক সেজে বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। কিন্তু কথকের জেরার মুখে সত্য ব্যাপারটি প্রকাশিত হয়। লােকটি চলে যাওয়ার পর বিধু ঘটনাটি জানতে পেরে বলে, এমন আরও অনেকেই বাক্সের মিথ্যা দাবি নিয়ে আসবে।

গ। উদ্দীপকের রতন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের প্রতিনিধিত্ব করে।

পড়ে পাওয়া’ গল্পে একদল কিশােরের সততার কথা উঠে এসেছে। তারা একটি মূল্যবান টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পেলেও তা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার সংকল্প করে। এক্ষেত্রে তাদের নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

উদ্দীপকের রতন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের মতােই নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। সােনার আংটি কুড়িয়ে পেয়েও সে আত্মসাৎ করেনি। বরং তার মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছে। ‘পড়ে পাওয়া গল্পের কিশােরদের আচরণেও এ বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও তারা টিনের ক্যাশ বাক্সটি প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়ে সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। এভাবে উদ্দীপকের রতন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ। উদ্দীপক এবং গল্পের মূলভাব কর্তব্যপরায়ণতা এবং নৈতিক চেতনার-ই পরিচায়ক’- উক্তিটি যথার্থ।

“পড়ে পাওয়া’ গল্পে কর্তব্যপরায়ণতা এবং নৈতিক চেতনার শিল্পময় প্রকাশ লক্ষ করা যায়। কারাে হারানাে জিনিস তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার মাঝে আনন্দ আছে। তাছাড়া এর মাধ্যমে ফেরতদাতার চরিত্রের সততা ও নৈতিকতার প্রকাশ ঘটে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের মাধ্যমে এই সত্যটাই প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের রতন অফিস ছুটির পর ম্যানেজারের রুম গােছাতে গিয়ে একটি আংটি কুড়িয়ে পায়। প্রথমে তার লােভ হওয়ায় সেভাবে এটি তার মেয়েকে হার দেবে। পরক্ষণেই সে অপরাধবােধে জর্জরিত হয় এবং আংটিটি তার মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে ভার মুক্ত হয়। তার মধ্যে ব্যপরায়ণতা ও নৈতিক চেতনাবােধ জাগ্রত হওয়ার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

পড়ে পাওয়া’ গল্প এবং উদ্দীপকটি বিশ্লেষণে বলা যায়, ঘটনা ভিন্ন হলেও উভয়ক্ষেত্রেই একই চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকের রতন ও গল্পের কিশােররা অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ না করে তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাহীন ছিল। কিশােরদের সততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও নৈতিকতার দিকটি রতনের কর্মকাণ্ডেও লক্ষণীয়। সুতরাং উদ্দীপক এবং গল্পের মূলভাব কর্তব্যপরায়ণতা এবং নৈতিক চেতনারই পরিচায়ক’- উক্তিটি যথার্থ ।



প্রশ্ন ২। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে এসে দেখতে পায় একটি শিশু মা-বাবাকে হারিয়ে একাকী কাদছে। দুরন্ত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শিশুর মা-বাবাকে খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ নেয়। অবশেষে খুঁজেও পায়। শিক্ষা সফরের আনন্দের সাথে যুক্ত হয় নিজেদের কর্তব্যবােধ, বুদ্ধিমত্তা এবং মানবিকতার আনন্দ।

ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় চব্বিশ পরগনা জেলার কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?

খ. তুমি পড়াে না, তােমার সে খোজে কী দরকার?’ কথাটি বুঝিয়ে দাও।

গ. উদ্দীপকের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে পড়ে পাওয়া গল্পের কাদের সাথে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করাে। 

ঘ. “উদ্দীপকটি পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ”- উক্তিটির সত্যতা নিরূপণ করাে।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় চব্বিশ পরগনা জেলার মুরাতিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

খ। বড়দের কথার মধ্যে হঠাৎ করে প্রশ্ন করায় গল্পকথকের বাবা তাকে ধমক দিয়ে আলােচ্য উক্তিটি করেন।

কাপালি সম্প্রদায়ের এক লােক একদিন চাকরির খোঁজে লেখকদের বাড়িতে আসে। লেখকের বাবার সাথে কথােপকথনের এক পর্যায়ে লােকটি তার হারানাে ক্যাশ বাক্সটির প্রসঙ্গ তােলে। সে সময় গল্পকথকেরা দুই ভাই পড়ছিলেন। হারানাে বাক্সটির প্রসঙ্গ উঠতেই লেখক কান খাড়া করে শুনতে লাগলেন। তখন লেখক জিজ্ঞাসা করলেন যে, হারানাে বাক্সটি কী রংয়ের ছিল? পড়া বাদ দিয়ে বড়দের কথার মধ্যে কথা বলায় লেখকের বাবা তাকে ধমক দেন এবং আলােচ্য উক্তিটি করেন।

গ। উদ্দীপকের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের সাথে তুলনা করা যায়।

কারাে হারানাে জিনিস তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার মাঝে এক ধরনের আনন্দ আছে। আর এর মাধ্যমে ফেরতদাতার চরিত্রের সততা ও নৈতিকতা প্রকাশ পায়। সেই সাথে তার দায়িত্বশীলতাও ফুটে উঠে। উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা এবং আলােচ্য গল্পের কিশােররা এর বাস্তব দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে এসে দেখতে পায় একটি শিশু বাবা-মাকে হারিয়ে একাকী কাঁদছে। শিশুটির প্রতি তাদের মায়া হয় এবং তারা শিশুকে তার -মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর হয়। তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে তারা শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থীদের এই বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্ববােধের পরিচয় পাই পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের মাঝেও। তারা কুড়িয়ে পাওয়া ক্যাশবাক্স আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিককে খুঁজে তা ফিরিয়ে দেয়। কিশােরদের এই নৈতিক দায়িত্ববােধ ও বিচক্ষণতার সাথে উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মিল রয়েছে।

ঘ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনা হলাে নৈতিক চেতনার সৃষ্টি ও কর্তব্যপরায়ণতা, যা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।

শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলাে মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানাে। শিক্ষার আলােয় নিজেকে আলােকিত করে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়েই মানবজীবনের সার্থকতা সৃচিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ করতে হলে তাই সততা ও নৈতিকতা চর্চার পাশপাশি কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠতে হবে।

উদ্দীপকে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। শিক্ষা সফরে গিয়ে তারা বাবা-মা হারানাে এক শিশুকে একাকী কাদতে দেখে। শিশুটির প্রতি তাদের মায়া হয়। তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, শিশুটিকে তারা তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিবে। কেননা, এটা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শিশুর বাবা-মাকে খুঁজে বের করে এবং শিশুটিকে তাদের নিকট ফিরিয়ে দেয়।

পড়ে পাওয়া’ গল্পে আমরা একদল কিশােরদের নৈতিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাই। এ গল্পে কিশােররা পড়ে পাওয়া অর্থ-সম্পদ নিয়ে লােভের পরিচয় দেয়নি। বরং দায়িত্বশীলতার সাথে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে এবং তাকে তার অর্থ ফিরিয়ে দেয়। উদ্দীপকেও আমরা দেখি যে, শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব নিয়ে শিশুটিকে তার বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তারা শিক্ষা সফরে গিয়ে নিছক আনন্দ ভ্রমণে মত্ত না হয়ে নৈতিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। তাই “উদ্দীপকটি যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ।”- এ উক্তিটি যথার্থ ।

প্রশ্ন ৩। রিপন স্কুলে যাওয়ার পথে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেল। মানিব্যাগের ভেতর থেকে মালিকের ঠিকানা পেয়ে অনেক কষ্ট করে ফেরত দিয়ে এলাে। লােকটি অবাক হয়ে দেখল, মানিব্যাগে সবকিছু ঠিকমতাে আছে। এতটুকু ছেলের সততা লােকটিকে মুগ্ধ করে।

ক. “পড়ে পাওয়া’ গল্পে লেখকের ছেলেবেলার কোন সময়টার কথা বলা হয়েছে?

খ. তিনখানা কাগজ লিখে নদীর ধারের গাছে লাগানাে হলাে কেন?

গ. উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সাথে পড়ে পাওয়া’ গল্পের মিলগুলাে লেখাে।

ঘ. এতটুকু ছেলের সততা লােকটিকে মুগ্ধ করে।’ এই বক্তব্যটির সাথে পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল বক্তব্য লুকায়িত লেখাে।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। পড়ে পাওয়া’ গল্পে লেখকের ছেলেবেলার কৈশােরের কথা বলা হয়েছে।

খ। কাগজগুলাে পড়ে বাক্সের মালিক যাতে তাদের সঙ্গে যােগাযােগ করতে পারে তাই তিনখানা কাগজ লিখে নদীর ধারের গাছে লাগানাে হলাে।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােররা ঝড়ের রাতে কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘুড়ির মাপে তিনটি কাগজে বাক্স পাওয়ার খবর এবং খুঁজে পাওয়ার স্থান লিখে নদীর ধারের রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন গাছে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়। যেন তা পড়ে বাক্সের মালিক তাদের সঙ্গে যােগাযােগ করতে পারে।

গ। সততা ও নৈতিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সাথে পড়ে পাওয়া’ গল্পের মিলটি রয়েছে।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে একদল কিশােরের সততার কথা উঠে এসেছে। তারা একটি মূল্যবান টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পেলেও তা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার সংকল্প করে। এক্ষেত্রে তাদের নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় ।

উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনাগুলােও পড়ে পাওয়া’ গল্পের দিকগুলােকে তুলে ধরে। কেননা, এখানেও নৈতিকতার পরিচয় পাই রিপন চরিত্রের মাধ্যমে। স্কুলে যাওয়ার পথে মানিব্যাগ কুড়িয়ে পায় | রিপন ব্যাগের ভেতর থাকা ঠিকানার মাধ্যমে সে প্রকৃত মালিককে ব্যাগটি ফিরিয়ে দেয়। অক্ষত মানিব্যাগ পেয়ে ব্যাগের মালিক রিপনের সততায় মুগ্ধ হয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পেও কিশােরদের আচরণে নিঃস্ব কাপালিক মুগ্ধ হয়ে যায়। কেননা, কিশােরদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবােধে কাপালিক বিস্মিত। সততা, নিষ্ঠা, উন্নত মানবিকবােধের দিকটিগুলােই ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সাথে উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সাদৃশ্য রচনা করে।

ঘ। রিপনের সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবােধ, ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল বক্তব্যকে ধারণ করে।

পড়ে পাওয়া’ গল্পের গল্পকথক এবং তার বন্ধু বাদল একটি টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরিকল্পনা করে। অবশেষে বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে সক্ষম হয়। কিশােরদের সততা দেখে বাক্সটির মালিক কাপালিক বিস্মিত হয়ে যায় ।

উদ্দীপকের রিপন স্কুলে যাওয়ার পথে মানিব্যাগ কুড়িয়ে পায়। ব্যাগের ভেতরে টাকা পেয়েও সে ব্যাগটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। অবশেষে ব্যাগের ভেতরে থাকা ঠিকানার মাধ্যমে অতি কষ্টে সে ব্যাগটি মালিককে ফেরত দিতে সমর্থ হয়। রিপনের সততা দেখে লােকটি মুগ্ধ হয়ে যায়। কেননা, ব্যাগের ভেতরে সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। এখানে রিপনের নৈতিকতা লােকটিকে বিস্মিত করে।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশােররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ-সম্পদ নিয়ে লােভের পরিচয় দেয়নি। বরং তারা অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে সমর্থ হয়। কিশােরদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবােধে বাক্সটির মালিক নিঃস্ব কাপালিক বিস্মিত হয়ে যায়। উদ্দীপকেও রিপন কুড়ানাে মানিব্যাগ প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়। রিপনের সততা লােকটিকে মুগ্ধ করে। নিজেদের লােভ সংযত করে প্রকৃত মালিককে তাদের হারানাে সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মাঝে আছে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয়। এদিকটির মধ্যেই পড়ে পাওয়া’ গল্পের এবং উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার মূল বক্তব্য লুকায়িত।



প্রশ্ন ৪। মাহি ও জাহিন সকালে স্কুলে যাচ্ছিল । যাওয়ার পথে তারা একটি কালাে রঙের ছােট ট্রাভেল ব্যাগ পড়ে আছে দেখতে পেল। ব্যাগটি তুলে দেখল এটি ওজনে বেশ ভারী। ওরা ভাবল এর মধ্যে নিশ্চয়ই অনেক দামি জিনিস আছে। মাহি নিষেধ করার পরও জাহিন ব্যাগটি নিয়ে এলাে। তারা সিদ্ধান্ত নিল যেভাবেই হােক মালিককে খুঁজে বের করে ব্যাগটি ফেরত দেবে। দুজনে বুঝতে পারল অন্য কারাে জিনিস নেওয়া অন্যায় ।

ক. ‘পত্রপাঠ বিদায়’ কথাটির অর্থ কী?

খ. ঠাকুরমশাই, আপনারা মানুষ না দেবতা?’— কাপালি এ কথা কেন বলেছিল?

গ. উদ্দীপকের মাহি ও জাহিনকে কোন যুক্তিতে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়? বুঝিয়ে লেখাে।

ঘ. “উদ্দীপকটি যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটিকে প্রতিনিধিত্ব করে।”- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করাে।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। ‘পত্রপাঠ বিদায়’ কথাটির অর্থ তৎক্ষণাৎ বিদায় ।

খ। ঠাকুরমশাই আপনারা মানুষ না দেবতা?’— কাপালি এ কথা বলেছিল কিশােরদের উদার মানসিকতা লক্ষ্য করে ।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশােরেরা অর্থের লােভ ত্যাগ করে টিনের বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার কথা ভেবেছে। শুধু তাই নয়, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে তারা বাক্সটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করেছে এবং যথাযােগ্য প্রমাণ নিয়ে তারপর বাক্সটিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাদের এ দায়িত্বজ্ঞান ও মহৎ হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে বাক্সটির মালিক গরিব কাপালি কিশােরদের উদ্দেশ করে এ কথা বলেছিল।

গ। উদ্দীপকের মাহি ও জাহিনকে নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধুদের সঙ্গে-তুলনা করা যায়।

পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধু ও তার বন্ধুরা সততা ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে। তারা পড়ে পাওয়া ক্যাশ বাক্স নিজেরা আত্মসাৎ করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিধুর নেতৃত্বে তার বন্ধুরা প্রকৃত মালিকের কাছে ক্যাশবাক্স ফিরিয়ে দিয়ে সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।

উদ্দীপকের মাহি ও জাহিন এবং গল্পের বিধু ও তার বন্ধুরা উভয়েই পড়ে পাওয়া জিনিসের প্রতি লােভ দেখায়নি। দায়িত্বশীলতার পরিচয়ের দিয়ে তাদের চরিত্রে নৈতিকতার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের মাহি ও জাহিন ট্র্যাভেল ব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করে তা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে কিশাের বয়সী বিধুরা পড়ে পাওয়া টিনের ক্যাশ বাক্সটিও মালিককে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়। আর এ নৈতিকতার দিক দিয়েই উদ্দীপকের মাহি ও জাহিনকে আলােচ্য গল্পের বিধুদের সঙ্গে তুলনা করার যায় ।

ঘ। উদ্দীপকে মানবিকবােধের প্রকাশ ঘটেছে, যা ‘পড়ে পাওয়া গল্পের শিক্ষণীয় দিককে প্রতিনিধিত্ব করে।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কতিপয় বালকের বুদ্ধিদীপ্ত সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় যা তাদের মানবিক বােধের প্রকাশ ঘটায়। গল্পকথক ও তার বন্ধুরা একটা টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পায়। তারা বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পরামর্শ করে এবং অবশেষে প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে সক্ষম হয় । লােভ সংবরণ করে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাই হলাে আলােচ্য গল্পের শিক্ষণীয় দিক।

উদ্দীপকে মাহি ও জাহিন স্কুলে যাওয়ার পথে একটা কালাে রঙের ছােট ট্রাভেল ব্যাগ দেখতে পায়। সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ব্যাগটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে চাইল। লােভ সংবরণ করে তারা তাদের পরিকল্পনার মাধ্যমে মালিককে তার হারানাে ব্যাগ ফিরিয়ে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়। তাদের এ কাজ নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীল ও মহৎ অনুভবের পরিচয় দেয়।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরেরা টাকার লােভ না করে প্রকৃত মালিককে টিনের বাক্সটি ফিরিয়ে দিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবােধের পরিচয় দিয়েছে যা তাদের মানবিকতাবােধের প্রকাশ করে। মানবিকবােধ জাগ্রত করাই হলাে আলােচ্য গল্পের শিক্ষণীয় দিক। উদ্দীপকের মাহি ও জাহিনের কর্মকাণ্ডেও অনুরূপ মানবিকতাবােধের পরিচয় পাওয়া যায়। সুতরাং এ কথা বলা যায়, উদ্দীপকটি পড়ে পাওয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটিকে প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রশ্ন ৫। অটোরিকশাওয়ালা আরিফ বহু কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে। একদিন যাত্রী নামিয়ে রিকশার সিটে একটি সুটকেস দেখতে পায়। সুটকেস খুলে টাকা দেখে অবাক হয়ে যায়। টাকার লােভ সামলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে সে টাকা ফিরিয়ে দেয়।

ক. ‘কাপালি’ কী?

খ. ‘ওর মতাে কত লােক আসবে’- কথাটি ব্যাখ্যা করাে।

গ. উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে নির্লোভ মানসিকতা উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্প অবলম্বনে কথাটি বিশ্লেষণ করাে।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। কাপালি হলাে তান্ত্রিক হিন্দু সম্প্রদায়।

খ। পড়ে পাওয়া বাক্সের মালিকানা দাবি করতে আসা একজন নকল মালিককে কেন্দ্র করে বিধু কথাটি বলেছিল।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে পড়ে পাওয়া বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিতে বিধু ও তার বন্ধুরা কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি লিখে নদীর ধারে বিভিন্ন গাছে আঠা দিয়ে মেরে দেয়। তখন লােভে পড়ে এক লােক বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। কিন্তু কথকের জেরার মুখে প্রমাণিত হয় লােকটি প্রকৃত মালিক নয়। লােকটি চলে যাওয়ার পর বিধু ঘটনাটি জানতে পেরে বলে, ওর মতাে কত লােক আসবে’ বাক্সটির মিথ্যা দাবি নিয়ে।

গ। সততা ও নৈতিকতার বাস্তব চিত্র উপস্থাপনের দিক থেকে উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।

সততা ও মানবিকতাবােধ মানুষের মহৎ গুণ। এগুণের অধিকারীরা সবসময় বিপদগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকে। এমন কল্যাণধর্মী ও নৈতিকতার বাস্তব উপমা মেলে উদ্দীপক ও পড়ে পাওয়া’ গল্পে।

উদ্দীপকে অটোরিকশাওয়ালা দরিদ্র আরিফ একদিন যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তার রিকশার সিটে একটি সুটকেস দেখতে পায়। সুটকেস খুলে অনেক টাকা দেখেও সে লােভ সামলিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে টাকাগুলাে ফিরিয়ে দেয়। পড়ে পাওয়া গল্পেও কিশােররা একটি টিনের বাক্স পেয়ে তা আত্মসাৎ করার লােভ সামলিয়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাক্সটি ফিরিয়ে দেয়। এমন নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতার চিত্র উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া গল্পে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে।

ঘ. উদ্দীপকের অটো রিকশাওয়ালা আরিফ ও ‘পড়ে পাওয়া গল্পের কিশােরদের নির্লোভ মানসিকতা বাস্তবিকই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতা ও নির্লোভ মানসিকতা মানুষের মৌলিক মানবীয় গুণাবলি। এগুলাে মানুষকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। এ গুণাবলি মানুষকে অন্যের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এমন বাস্তব দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকে নির্লোভ মানসিকতার অধিকারী অটোরিকশাওয়ালা আরিফ। একদিন যাত্রী নামিয়ে দিয়ে সে তার রিকশার সিটে একটি সুটকেস দেখতে পায়। সুটকেস খুলে অনেক টাকা দেখেও লােভ সামলিয়ে আরিফ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে টাকা ফিরিয়ে দেয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পেও নির্লোভ মানসিকতার অধিকারী কিশােররা স্বর্ণ ও টাকাভর্তি একটি টিনের বাক্স পেয়ে অনেক অনুসন্ধান করে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়।

উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে সততার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে সম্পদ হারানাে ব্যক্তি নিজ সম্পদ পেয়ে স্বস্তি লাভ করেছে। ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে নির্লোভ মানসিকতার সুফল । তাই বস্তুনিষ্ঠভাবেই বলা যায়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে নির্লোভ মানসিকতা।’ প্রশ্নোক্ত কথাটি যথার্থ ।    

Leave a Comment