পড়ে পাওয়া গল্পের মূলভাব ও ব্যাখা

পড়ে পাওয়া গল্পের উৎস

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত কিশাের গল্প । এটি ‘নীলগঞ্জের ফালমান সাহেব’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের মূলভাব

এটি একটি বিখ্যাত কিশাের গল্প। এ গল্পে দুজন কিশাের একটি টাকার বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং তারা ও অন্য কিশােররা মিলে সেটি তার প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অবশেষে তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এ গল্পের কিশােররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ সম্পদ নিয়ে লােভের পরিচয় দেয়নি। বরং তারা তাদের বয়সের চেয়েও অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, বয়সে ছােট হলে কী হবে তাদের নৈতিক অবস্থানও বেশ দৃঢ় । এই গল্পে কিশােরদের ঐক্যচেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায় তেমনি তাদের উন্নত মানবিক বােধেরও প্রকাশ ঘটেছে। তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার পাশাপাশি তীক্ষ্ম বিবেচনাবােধও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিশােরদের এমন সততা ,নিষ্ঠা ও কর্তব্যবােধে বয়ােজ্যেষ্ঠরা ও বিস্মিত, অভিভূত। এ গল্পে দেখা যায় কিশােররা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তারা তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও বিবেচক তাকে মান্য করে তার ওপর আস্থা স্থাপন করে। এটি গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতি ভালােবাসার চিত্র ফুটে উঠেছে এ গল্পে ।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের লেখক পরিচিতি

*বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের জন্ম ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার মুরাতিপুর গ্রামে,মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পৈত্রিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাকপুর গ্রামে। মাতার নাম মৃণালিনী দেবী। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশা ছিল কথকতা ও পৌরােহিত্য।



* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের বাল্য ও কৈশােরকাল কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে।

* কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ.পড়াকালে ১৯১৮ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন – প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর ২২ বছর পর ।

* ছােটগল্প উপন্যাস দিনলিপি ও ভ্রমনকাহিনী রচনার মধ্য দিয়ে – তিনি জীবনের আনন্দ খুজে পান ।

* প্রকৃতি ও মানবজীবন অখন্ড অবিচ্ছিন্ন সত্তায় সমন্বিত হয়েছে – বিভূতিভূষণের সাহিত্যকর্মে।

* প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য ও গ্রামবাংলার সাধারন মানুষের জীবনাচরনের সজীব ও নিখুঁত চিত্র অংকিত হয়েছে – বিভূতিভূষণের সাহিত্যকর্মে ।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলাে – পথের পাঁচালী ও অপরাজিত উপন্যাস । এগুলাে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের উল্লেখযােগ্য উপন্যাস – আরণ্যক ও ইছামতি।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের উল্লেখযােগ্য গল্পগ্রন্থ – মেঘমল্লার , মৌরীফুল, ভ্রমণ-দিনলিপি, তৃণাঙ্কুর, স্মৃতির রেখা।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের উলেশ্লখযােগ্য কিশাের উপন্যাস – চাঁদের পাহাড় , মিসমিদের কবচ, হীরামানিক জ্বলে।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায় ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের SUPER TIPS:

* বাড়য্যেদের মাঠের বাগান বিখ্যাত – চাঁপাতলীর আমের জন্য ।

* চাঁপাতলীর আম পাকে – কালবৈশীর সময়ে ।

* পড়ে পাওয়া গল্পে ‘দিব্যি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে – চমক্কার বা আশাতীতভাবে অর্থে।

* দুপুরের চমক্কার রােদ ছিল – গাছপালার মাথার ওপর।

* বালকদের কাছে বৈশাখের ঝড় মানেই – আম কুড়ানাে ।

* বাক্সটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল – বাদলদের বাড়ির বিচুলিগাদায়।

* বিচুলিগাদা অর্থ – ধানের খড়ের স্তুপ ।

* বালকদের দলের সর্দার ছিল – বিধূ।

* সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীর ধার দিয়ে বাড়ি ফিরছিল – কথক আর বাদল।

* টাকাপয়সা রাখার বাবাকে পাড়াগাঁয়ে বলে – ডাবল টিনের ক্যাশ বাক্স ।

* অম্বরপুরের কাপালি কথকের বাবার কাছে এসেছিল – চাকরির খোঁজে।

* কাপালি অর্থ – তান্ত্রিক হিন্দু সম্প্রদায়।

* হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠল – কথক ও বাদল।

* বন্যায় নিরাশ্রয় হয়ে গেল – অম্বরপুর চরের কাপালিয়া।

* কাপালি নির্বিষখােলার হাট থেকে পটল বিক্রি করে ফিরছিল – জষ্টি মাসে।

* ডাবল টিনের ক্যাশ বাক্সের ভেতর ছিল – প্রায় আড়াইশ টাকার গহনা ও নগদ পঞ্চাশ টাকা।

* সংশয় শব্দের অর্থ – সন্দেহ

* দেবমন্দিরের সামনের ঘরকে বলা হয় – নাট মন্দির।

* যে বৈষ্ণব হরিনাম সংকীর্তন করে জীবিকা অর্জন করে তাকে বলে – বােষ্টম।

* পত্রপাঠ বিদায় বলতে বােঝায় – তৎক্ষনাৎ বিদায়।

* অপ্রতিভ শব্দের অর্থ – বিব্রত বা লজ্জিত।

** অদেষ্ট শব্দের অর্থ – অদৃষ্ট বা নিয়তি।

* বিকৃত বলতে বােঝায় – প্রকৃত রুপে নয় এমন।

* গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এমন – অনাদৃত।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােররা নির্লোভের পরিচয় দিয়েছে – কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদের ওপর।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের পরিচয় পাওয়া যায় – দায়িত্বশীলতায় ।

* পড়ে পাওয়া’ গল্পে প্রকাশ পেয়েছে – উন্নত মানবিকবােধ।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে – বালকদের তীক্ষ বিবেচনাবােধ।

* বালকদের সততা আর নিষ্ঠা দেখে বয়ােজ্যেষ্ঠরা – বিস্মিত, অভিভূত।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিক – দলনেতার প্রতি কিশােরদের আনুগত্য ।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও বিবেচক – দলনেতা বিধূ।

* দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি ভালােবাসার চিত্র পাওয়া যায় – পড়ে পাওয়া গল্পে।

* ধান মাপার বেতের ঝুড়ি বা পাত্রকে বলা হয় – আড়ি।

* দন্ডবৎ শব্দের অর্থ – মাটিতে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।

* চন্ডীমন্ডপ অর্থ – যে মন্ডপে বা ছাদযুক্ত চত্বরে দুর্গা,কালী প্রভৃতি দেবীর পুজা করা হয়।

* কুড়ানাে বাক্সকে খোঁজ করতে বলেছিল – রায়বাড়িতে।

* কুড়ানাে বাক্স পাওয়ার জন্য যে চার জনের সাথে যােগাযােগ করতে বলা হলাে – বিধু , সিধু , নিধু, তিনু।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় কোন্ ধরনের লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত – নিসর্গের রূপকার।

* বালকদের মধ্যে হাতের লেখা ভালাে ছিল – বাদলের।

* পড়ে গল্পে বড় হয়ে উকিল হবে – বিধু।

* টিনের বাক্সটির রং ছিল – সবুজ।

* নােটিস লিখে কতখানা কাগজ টাঙানাে হয়েছিল – তিনখানা।

 

Leave a Comment