জুতা আবিষ্কার কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

জুতা আবিষ্কার কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতায় কাদের মুখ চুন হলাে?

উত্তর : জুতা-আবিষ্কার কবিতায় পণ্ডিতদের মুখ চুন হলাে।

প্রশ্ন ২। রাজা কতক্ষণ ভাবলেন? 

উত্তর : রাজা সারা রাত ভাবলেন।

প্রশ্ন ৩। ধুলার মাঝে নগর কী হলাে?

উত্তর : ধুলার মাঝে নগর উহ্য হলাে ।

প্রশ্ন ৪। ‘কিস্তি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘কিস্তি’ শব্দের অর্থ হলাে নৌকা বা জাহাজ।

প্রশ্ন ৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলাে ‘বনফুল’।

প্রশ্ন ৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ৭। ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতায় বর্ণিত রাজার নাম কী?

উত্তর : ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতায় বর্ণিত রাজার নাম হবু।

প্রশ্ন ৮। জুতা-আবিষ্কার কবিতাটি কার লেখা?

উত্তর : ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ।

প্রশ্ন ৯।  রাজার পা দুটি কী থেকে মুক্ত করার কথা কবিতায় আছে?

উত্তর : রাজার পা দুটি ধুলা থেকে মুক্ত করার কথা কবিতায় আছে।

প্রশ্ন ১০। কে রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন?

উত্তর : রাজা হবু রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন।

প্রশ্ন ১১। সারা রাজ্য কিসে পরিপূর্ণ হয়ে যায়?

উত্তর : সারা রাজ্য ধুলায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

প্রশ্ন ১২। কার আদেশ মানতে গিয়ে সভাসদ কোনাে উপায় খুঁজে পান না?

উত্তর : রাজার আদেশ মানতে গিয়ে সভাসদ কোনাে উপায় খুঁজে পান না।

প্রশ্ন ১৩। চর্মকার রাজার পদযুগল কী দিয়ে ঢেকে দেন?

উত্তর : চর্মকার রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেন।

প্রশ্ন ১৪। চর্মকার কার বুদ্ধিতে রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেন?

উত্তর : চর্মকার নিজ বুদ্ধিতে রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেন।

প্রশ্ন ১৫। রাজার পা কিসের স্পর্শ থেকে মুক্তি পায়?

উত্তর : রাজার পা ধুলার স্পর্শ থেকে মুক্তি পায়।

প্রশ্ন ১৬। রাজা ধরণি-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র কেমন ধুলা পায়ে লাগার কথা বলেছেন?

উত্তর : মলিন ধুলা।

প্রশ্ন ১৭। রাজার মতে কোথায় অনাসৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর : রাজার মতে তার রাজ্যে অনাসৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন ১৮। রাজার কথাগুলাে কে শুনেছিলেন?

উত্তর : রাজার কথাগুলাে মন্ত্রী গােবুরায় শুনেছিলেন।

প্রশ্ন ১৯। রাজার কথাগুলাে শুনে কে ভেবে খুন হন?

উত্তর : রাজার কথাগুলাে শুনে মন্ত্রী গােবুরায় ভেবে খুন হন।

প্রশ্ন ২০। অশ্রুজলে কার দাড়ি ভাসে?

উত্তর : অশ্রুজলে মন্ত্রীর পাকা দাড়ি ভাসে।

প্রশ্ন ২১। কার কথা শুনে গােবুরায় আঁধার দেখেন?

উত্তর : রাজা হবুর কথা শুনে গােবুরায় আঁধার দেখেন।

প্রশ্ন ২২। কত পিপে নস্য ফুরিয়ে গেল?

উত্তর : উনিশ পিপে নস্য ফুরিয়ে গেল ।

প্রশ্ন ২৩। ধুলার মেঘে কী ঢাকা পড়ল?

উত্তর : ধুলার মেঘে সূর্য ঢাকা পড়ল।

প্রশ্ন ২৪। ধুলার বেগে কারা কেশে মরে?

উত্তর : ধুলার বেগে রাজ্যের লােকেরা কেশে মরে।

প্রশ্ন ২৫। জুতা-আবিষ্কার কবিতায় কত লাখ ভিস্তির কথা উল্লেখ আছে?

উত্তর : ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতায় একুশ লাখ ভিস্তির কথা উল্লেখ আছে।

প্রশ্ন ২৬। জলের জীব কী বিনা মরল?

উত্তর : জলের জীব জল বিনা মরল।

প্রশ্ন ২৭। সবাইকে কে গাধা বলেছিলেন?

উত্তর : রাজা হবু সবাইকে গাধা বলেছিলেন।

প্রশ্ন ২৮। ‘চরণ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘চরণ’ শব্দের অর্থ পা।

প্রশ্ন ২৯। ‘চামার’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘চামার’ শব্দের অর্থ চর্মকার।

প্রশ্ন ৩০। ‘মাহিনা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘মাহিনা’ শব্দের অর্থ পারিশ্রমিক।

জুতা আবিষ্কার কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। “ধুলার মাঝে নগর হলাে উহ্য”- কেন উহ্য হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : রাজার হুকুমে রাজ্যের ধুলা দূর করতে ধুলা ঝাড়তে গিয়ে সারা রাজ্য ধুলায় পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

রাজার পায়ে ধুলা লাগে বিধায় রাজা হবু এ সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রী গােবুরায়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। মন্ত্রী পন্ডিতদের পরামর্শে সাড়ে সতেরাে লক্ষ ঝাঁটা কিনে রাজ্যের ধুলা দূর করার কর্মযজ্ঞ শুরু করে। ধুলা ঝাড়তে গিয়ে রাজ্যের আকাশ-বাতাস শহর-নগর ধুলায় পরিপূর্ণ হয়। এ অবস্থার বর্ণনা করতে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

প্রশ্ন ২। রাজা কিসের প্রতিকার করতে বলেছেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : রাজার পায়ে ধুলা লাগে– রাজা এই বিষয়টির প্রতিকার করতে বলেছেন। 

রাজা সারা রাত ভেবেচিন্তে মন্ত্রীকে বলেন যে, রাজ্যে চলাফেরা করার সময় তার পায়ে ধুলা লাগে। এটা তার ভালাে লাগে না। কারণ তিনি রাজা। তার পায়ে ধুলাে লাগবে এটা হতে পারে না। রাজার পায়ে ধুলা লাগবে রাজা এটা মেনে নিতে চাইলেন না। নিজের পায়ে ধুলা যেন না লাগে মন্ত্রীকে ডেকে রাজা সে ব্যবস্থা করতে বলেন। যদি তারা তা করতে না পারে তাহলে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি তাদের জানিয়ে দিলেন। রাজ্য থেকে ধুলা সরানাের ব্যবস্থা করতে বলেন রাজা।

প্রশ্ন ৩। ধুলাতে রাজার মুখ-বক্ষ ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখ। 

উত্তর : ঝাটা দিয়ে রাজ্যের ধুলা দূর করার প্রচেষ্টায় আরও বেশি ধুলা বাতাসে উড়ে রাজার মুখ-বক্ষ ভরে গেল। 

রাজা হবু পায়ে যাতে ধুলা না লাগে সে জন্য রাজ্য থেকে ধুলা দূর করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় সবাইকে শান্তি দিবেন তিনি। তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যের সমস্ত ধুলা দূর করার জন্য ঝাটা কিনতে হবে। সেই কারণে সাড়ে সতেরাে লক্ষ ঝটা কেনা হয়। এই বিশাল আয়ােজন করে যখন ধূলা দূর করার চেষ্টা চালানাে হয় তখন সমস্ত রাজ্য ধুলায় ভরে ওঠে। ধুলার মেঘে সূর্য ঢাকা পড়ে। আর সেই ধুলাতেই রাজার মুখ-বক্ষ ভরে যায়।

প্রশ্ন ৪। রাজাকে ছিদ্রহীন ঘরে রাখার প্রস্তাব কেন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : রাজাকে ধুলার উপদ্রব থেকে বাচাতে ছিদ্রহীন ঘরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

রাজ্যের ধুলা দূর করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও একে একে সব ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রথমে ঝাটা দিয়ে রাজ্যের সমস্ত ধুলা দূর  করার প্রচেষ্টা চালানাে হয়, এতে রাজ্য ধুলায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।  সেই ধুলা দূর করার জন্য পানির ব্যবহারে সবকিছু কাদায় ভরে যায়। শুকিয়ে যায় নদী, পুকুর। অন্য কোনাে উপায় না পেয়ে রাজাকে ধুলামুক্ত রাখার জন্য কেউ একজন রাজাকে সব সময় ছিদ্রহীন ঘরে রাখার প্রস্তাব করেছিল। যাতে ধুলা প্রবেশ করতে না পারে। এমন ঘরে থাকলে রাজাকে ধুলা স্পর্শও করতে পারবে না এবং তার পায়েও ধুলা লাগবে না।

প্রশ্ন ৫। নহিলে কারাে রক্ষা নাহি আর’- রাজা এ কথাটি কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : রাজ্য থেকে ধুলা তাড়াতে না পারলে রাজা সবাইকে শাস্তি দেবেন একথা বােঝাতেই রাজা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

সবাই পায়ে ধুলা লাগায় বিষয়টি রাজা সারা রাত ভেবেছেন। রাজার মন্ত্রীদের সে বিষয়ে কোনাে দৃষ্টিপাত নেই। এ কারণে রাজা তাদের ওপর খুবই বিরক্ত। তার নিজের দেশের মাটি পা নােংরা করবে বিষয়টি রাজার কাছে অনাসৃষ্টি বলে মনে হয়। আর এ অনাসৃষ্টি দূর করার জন্য  জোরালােভাবে নির্দেশ দিতেই রাজা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

প্রশ্ন ৬। রাজার কথা শুনে গােবুরায় ভাবনায় পড়ে গেলেন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : রাজার আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে না পারলে তিনি সবাইকে শাস্তি দেবেন। এ কারণে গােবুরায় ভাবনায় পড়ে গেলেন। 

রাজা গােবুরায়কে ডেকে কড়া নির্দেশ দেন রাজ্যের ধুলা দূর করার  জন্য। রাজার নির্দেশ শুনে গােবুরায় ভাবনায় পড়ে যান। রাজার নির্দেশ তিনি কীভাবে পালন করবেন সেই চিন্তায় গগাবুরায় অস্থির হয়ে ওঠেন। তার সমস্ত শরীরে ঘাম প্রবাহিত হয়। কারণ রাজার নির্দেশ যথাসময়ে পালন করতে না পারলে কারও রক্ষা নেই।

প্রশ্ন ৭। ‘পায়ের ধুলা পাইব কী উপায়ে!’- চরণটিতে গােবুরায় কী প্রকাশ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ‘পায়ের ধুলা পাইব কী উপায়ে!’— চরণটি দ্বারা গোবুরায় রাজার পায়ে ধুলা না লাগলে সাধারণ মানুষ কীভাবে রাজার পদধূলি পাবে সেই দিকটিই প্রকাশ করেছেন।

রাজার পায়ে ধুলা লাগার কারণে রাজা ধুলা দূর করার নির্দেশ দেন। গােবুরায় রাজার নির্দেশ পালনের জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। তখন কোনাে উপায় না পেয়ে তিনি রাজার কাছে পায়ে ধুলা না লাগলে সাধারণ মানুষ তাঁর পায়ের ধুলা কীভাবে পাবে সেই দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করেন। মূলত গােবুরায় ধুলা দূর করার রাজার নির্দেশের বিকল্প পায় এই কথাটি বলেছেন।

প্রশ্ন ৮। ‘গেলে মাটি ধরায় তবে কোথায় হবে শস্য?’- চরণটি দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে?

উত্তর : মাটি না থাকলে পৃথিবীতে কীভাবে শস্য হবে- চরণটি দ্বারা এই কথাই বােঝানাে হয়েছে।

রাজার আদেশে রাজ্যের মন্ত্রী, জ্ঞানী, গুণী সবাই রাজ্যের ধুলা দূর করার জন্য বিভিন্ন পথ খুঁজতে থাকেন। ধুলা দূর করতে সবাই ঘুম বিসর্জন দিয়েছেন। জ্ঞানী-গুণীরা অনেক ভেবেচিন্তে বলেন, পৃথিবীতে মাটি না থাকলে শস্য হবে কীভাবে– তাদের এই জিজ্ঞাসাই উক্ত চরণটিতে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্ন ৯। ‘নদীর জলে নাহিকো চলে কিস্তি’- চরণটি দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : নদীর পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর নৌকা চলতে পারে না। প্রশ্নোক্ত লাইনটির মাধ্যমে এই বিষয়টিই বােঝানাে হয়েছে।

সবাই মিলে ঝাটা দিয়ে রাজ্যের ধুলা দূর করার কাজে লেগে যায়। এতে সমস্ত রাজ্য ধুলায় ভরে ওঠে। তখন ধুলা কমাতে একুশ লাখ ভিস্তি ব্যবহার করা হয় পানি ছিটানাের জন্য। শুকিয়ে যায় নদী, পুকুর ও বিলের সমস্ত পানি, তখন শুধু কাদা থাকে। আর নদীর পানি শুকিয়ে যায় বলে নদীতে নৌকা চলতে পারে না। প্রশ্নোক্ত কথা দ্বারা এ বিষয়টি বােঝানাে হয়েছে

প্রশ্ন ১০ | “এমনি সব গাধা/ধুলারে মারি করিয়া দিল কাদা।” কথাটি রাজা কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ধুলা দূর করার জন্য পানির ব্যবহারে রাজ্যময় কাদায় পরিণত হলে বিরক্ত হয়ে রাজা এ কথাটি বলেছেন।

সবাই ঝাঁটা দিয়ে ধুলা দূর করতে গেলে রাজ্য ধুলায় ছেয়ে যায় । তখন সেই ধুলা ধুয়ে পরিষ্কার করার জন্য ভিস্তির মাধ্যমে পানি ছিটানাে হয়। এতে ধুলার প্রকোপ থামলেও সবকিছু কাদায় ভরে যায়। পুকুর ও বিলের পানি শুকিয়ে সেখানে শুধু কাদা পড়ে থাকে। মন্ত্রীদের এই নির্বুদ্ধিতায় রাজা বিরক্ত হয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

প্রশ্ন ১১। সব কাজ ছেড়ে সবাই ছুটছিল কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : যােগ্য চামারের খোঁজে সব কাজ ছেড়ে সবাই ছুটছিল।

রাজার পায়ে ধুলা লাগায় রাজার মন বড়ই চিন্তিত। রাজার কড়া নির্দেশে মন্ত্রীরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সেগুলাে ব্যর্থ হলে সবাই চিন্তায় পড়ে যায়। রাজার চিন্তা দূর করার জন্য সমস্ত রাজ্য চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আসে। এজন্য যােগ্য মুচির খুব প্রয়ােজন। তাই রাজার আদেশ মানতে যােগ্য মুচির খােজে সব কাজ ছেড়ে সবাই ছুটছিল ।    

Leave a Comment