জীবন সঙ্গীত কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

জীবন সঙ্গীত কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতাটি ইংরেজি কোন কবিতার ভাবানুবাদ?

উত্তর: ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতাটি ইংরেজি A Psalm of Life কবিতার ভাবানুবাদ।

প্রশ্ন ২। ‘দারা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘দারা’ শব্দের অর্থ স্ত্রী।

প্রশ্ন ৩। ‘ধ্বজা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ধ্বজা’ শব্দের অর্থ হলাে পতাকা, নিশান।

প্রশ্ন ৪। বীর্যবান শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : বীর্যবান শব্দের অর্থ হলাে- শক্তিমান।

প্রশ্ন ৫। ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতায় কবি কী বলে ক্রন্দন করতে নিষেধ করেছেন?

উত্তর : ‘জীবন-সঙ্গীত কবিতায় কবি তুমি কার কে তােমার বলে ক্রন্দন করতে নিষেধ করেছেন।

প্রশ্ন ৬। ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতা অনুসারে জগতে কোন বিষয়টি দুর্লভ?

উত্তর : ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতা অনুসারে মহিমা এ জগতে দুর্লভ।

প্রশ্ন ৭। মানুষের আয়ুকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? 

উত্তর : মানুষের আয়ুকে শৈবালের নীর অর্থাৎ শেওলার উপর  পানির ফোটার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৮। আয়ু কিসের নীর?

উত্তর : আয়ু যেন শৈবালের নীর।

প্রশ্ন ৯। ‘আকিঞ্চন’ শব্দের অর্থ কী? 

উত্তর : ‘আকিঞ্চন’ শব্দের অর্থ চেষ্টা বা আকাঙ্ক্ষা।

প্রশ্ন ১০। কবি জীবকে কী করতে বলেছেন?

উত্তর : কবি জীবকে আকিঞন করতে বলেছেন।

প্রশ্ন ১১। কী অনিত্য নয়?

উত্তর : জীবাত্মা অনিত্য নয়।

প্রশ্ন ১২। এ সংসারে জন্ম কী নয়?

উত্তর : এ সংসারে জন্ম বৃথা নয়।

প্রশ্ন ১৩। ‘নিশার স্বপন’ অর্থ কী?

উত্তর : ‘নিশার স্বপন’ অর্থ রাতের স্বপ্ন।

প্রশ্ন ১৪।  কী আর পাওয়া যাবে না?

উত্তর : এমন মানব-জনম আর পাওয়া যাবে না ।

প্রশ্ন ১৫। কাকে বাহ্যদৃশ্য দেখে ভুলতে মানা করা হয়েছে?

উত্তর : মনকে বাহ্যদৃশ্য দেখে ভূলতে মানা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ১৬। সুখের আশা করলে কিসের ফাস গলায় পড়বে?

উত্তর : সুখের আশা করলে দুঃখের ফাস গলায় পড়বে।

প্রশ্ন ১৭। দুঃখের ফাস পরা কিসের উদ্দেশ্য নয়?

উত্তর : দুঃখের ফাস পরা জীবনের উদ্দেশ্য নয়।

প্রশ্ন ১৮। সংসারে আমাদের কী সাজতে হবে?

উত্তর : সংসারে আমাদের সংসারী সাজতে হবে।

প্রশ্ন ১৯। নিত্য কী করতে হবে?

উত্তর : নিত্য নিজ কাজ করতে হবে ।

প্রশ্ন ২০। নিত্য নিজ কাজ করলে কী হবে?

উত্তর : নিত্য নিজ কাজ করলে ভবের (সংসারের) উন্নতি হবে।

প্রশ্ন ২১। সময় কখনাে কেমন থাকে না?

উত্তর : সময় কখনাে স্থির থাকে না।

প্রশ্ন ২২। সহায়-সম্পদ কী হয়?

উত্তর : সহায়-সম্পদ শেষ হয়ে যায় ।

জীবন সঙ্গীত কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ‘দুঃখের ফাঁস’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘দুঃখের ফাঁস’ বলতে কবি মিথ্যা সুখের আশায় জীবনে  দুঃখ বাড়ানাের কথা বলেছেন।

সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন। সুখের পাশাপাশি দুঃখের অবস্থান। মিথ্যা  সুখের আশায় জীবনে দুঃখ বাড়িয়ে লাভ নেই। কারণ অধিক সুখে গা ভাসিয়ে দেওয়া বা দুঃখে বিষাদগ্রস্ত হওয়া জীবনের উদ্দেশ্য নয়। মানুষ অনেক সময় অতিরিক্ত সুখের আশায় দুঃখ ভােগ করে। কাঙ্ক্ষিত সুখ না পেয়ে জীবন বিষাদগ্রস্ত হয়। তখন সুখ থাকে না, দুঃখের ফাঁসে জীবন জর্জরিত হয়। এ  কারণেই কবি সুখের আশায় জীবনে দুঃখের ফাঁস পড়তে নিষেধ করেছেন।

প্রশ্ন ২। কবি জীবনকে শৈবালের নীরের সঙ্গে তুলনা করেছেন কেন?

উত্তর : শৈবালের নীরের সঙ্গে জীবনের তুলনা করায় কারণ হলাে শৈবালের নীর যেমন ক্ষণস্থায়ী, মানবজীবনও তেমনি ক্ষণস্থায়ী।

শৈবাল পানিতে ভাসমান একধরনের সবুজ গুচ্ছজাতীয় উদ্ভিদ। শীতকালে শিশিরের জল শৈবালের পাতায় জমে। যেকোনাে সময় তা ঝরে পড়তে পারে। অর্থাৎ শৈবালের পাতায় জমা শিশির যেমন অস্থায়ী, মানুষের জীবনও তেমনি অস্থায়ী। এ কারণেই মানবজীবনকে শৈবালের নীরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৩। কবি মানবকে ভয়ে ভীত না হওয়ার কথা বলেছেন কেন?

উত্তর : এই পৃথিবীতে মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। তাই কবি মানবকে ভয়ে ভীত না হওয়ার কথা বলেছেন।

মানবজীবন কোনাে ফুলশয্যা নয়। জীবনকে সার্থক করতে হলে সাহসী হতে হয়। এখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা-সংকট মােকাবিলা করতে হয়। এই পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে কোনােকিছু অর্জন করা যায় না । পৃথিবীতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হয়। জীবনকে সার্থক ও স্বাভাবিক করতে হলে কাজ করতে হয়। পৃথিবীর এই যুদ্ধ-বিগ্রহ দেখে কবি মানুষকে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রশ্ন ৪। কবি বাহাদৃশ্যে মন তুলাতে নিষেধ করেছেন কেন?  

উত্তর : কবি বাহাদৃশ্যে তথা বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপে নিজেকে অনুযায়ী  ভুলে থাকতে নিষেধ করেছেন। কারণ তা জীবনের সার্থকতার অন্তরায়।

‘জীবন-সৃঙ্গীত’ কবিতায় কবি মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের  আমাদের জ্ঞান দান করেছেন। তিনি এ কবিতায় জগৎ-সংসারে কর্তব্য-কর্ম সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন করে তুলেছেন। তিনি জগতের প্রতি বীতশ্রদ্ধ এবং জগতের চাকচিক্যে ডুবে থাকা দুটোকেই সার্থক জীবনের অন্তরায় মনে করেছেন। তিনি জগৎ ও জীবনমুখী হয়ে দুঃখ, জ্বরা-হতাশা নিয়ে তিলে তিলে ধ্বংস হওয়ার বিরােধিতা করেছেন। তার মতে, মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান । তাই এই মূল্যবান জীবনের যত্ন করতে হবে। জগৎ ও জীবনের কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়ােগ করে জীবনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে হবে।

প্রশ্ন ৫। জীবাত্মা অনিত্য নয় কেন? 

উত্তর : জীবাত্মা অনিত্য নয়, কারণ জীবকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতায় কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করেছেন। মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সার্থক করে তােলা যায় জগতের কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে। মানুষকে এ পৃথিবীতে সাহসী যােদ্ধার মতাে  সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। আবার মৃত্যুকে অনিবার্য জেনে জীবন-বিমুখ হলেও চলবে না। কারণ মানব-জন্ম অত্যন্ত মূল্যবান। জগতে কল্যাণকর কর্মের মাধ্যমে মানব জীবনকে সার্থক করে তােলা যায়।

প্রশ্ন ৬। ‘বৃথা জন্ম এ সংসারে’ কথাটি কেন বলা হয়েছে?

উত্তর : বৃথা জন্ম এ সংসারে’ কথাটি কবি কল্পনাপ্রবণ নৈরাশ্যবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন।

সংসার জীবনে কল্পনাপ্রবণ মানুষেরা সংসারের দায়িত্ব পালন না করে কেবল আকাশ-কুসুম কল্পনা করে। সেই কল্পনা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী যখন মানুষের প্রাপ্তি ঘটে না তখনই তাদের মধ্যে নিরাশা দেখা দেয়। ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে এবং মনে করে যে, বৃথাই তাদের জন্ম হয়েছে।

প্রশ্ন ৭। সংসার সমরাঙ্গনে টিকে থাকতে হলে আমাদের কী।

Leave a Comment