আমাদের লোকশিল্প গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। দাড়িয়াপুর গ্রামের রহিমা দরিদ্র হলেও শিল্পী মনের অধিকারিনী।  ছােটবেলা থেকেই সে বাঁশ ও বেত দিয়ে সংসারের প্রয়ােজনীয় অনেক  জিনিস তৈরি করত। কিন্তু আচমকা একদিন তার স্বামী মারা গেলে দুই সন্তান নিয়ে সে পথে বসে। রহিমা উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে সুই-সুতা হাতে তুলে নেয়। সে তার সুখ-দুঃখের জীবনালেখ্য দীঘল সুতার টানে ভাষা দিতে থাকে। একদিন বেসরকারি একটি সংস্থার মাধ্যমে তার সুচিশিল্পগুলাে বিদেশে যায় এবং মােটা অঙ্কের অর্থ প্রাপ্তির পাশাপাশি সেৃপ্রচুর সুনাম অর্জন করে।

ক. কোন এলাকার মাদুর’ সকলের কাছে পরিচিত?

খ. “ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে বলতে কী বােঝায়?

গ. স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের কীসের প্রতিনিধিত্ব করে? বর্ণনা করাে।

ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের আলােকে মূল্যায়ন করাে।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। খুলনার মাদুর সকলের কাছে পরিচিত।

খ। ‘ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে’— বলতে এর উচ্চমান ও অসাধারণ বৈশিষ্ট্য বােঝানাে হয়েছে। 

ঢাকাই মসলিন আমাদের লােকশিল্পের এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উপাদান। কারিগরি দক্ষতা ও শিল্পীমনের মিলন ঘটিয়ে অতি সূক্ষ্মভাবে এটি তৈরি করা হতাে। ছােট একটি আংটির ভেতর দিয়ে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় অনায়াসে প্রবেশ করানাে যেত। এ অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই দুনিয়াজোড়া তার কদর ছিল। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিতে এ বিষয়টিই বোঝানাে হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের রহিমার কাজটি আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে উল্লেখিত নকশি কাঁথা তৈরির ঐতিহ্যের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে।

কামরুল হাসান রচিত ‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে নকশি কাঁথার কথা বলা হয়েছে। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লােকশিল্প। 

বাংলাদেশের গ্রামে নকশি কাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। বর্ষার দিনে পানের বাটা পাশে নিয়ে দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে পা মেলে বসতেন মেয়েরা নকশি কাঁথা সেলাই করতে। গ্রামীণ নারীরা সাধারণত বর্ষাকালে আপন পরিবেশ ও জীবনের গল্পকেই সুই-সুতার সাহায্যে নকশার রূপ দেয়।

উদ্দীপকের রহিমাও জীবিকার তাগিদে নকশি কাঁথা তৈরি করে। প্রবন্ধের বর্ণনার মতােই নিজের জীবনের কাহিনিকেই সে সুই-সুতার সাহায্যে কাঁথায় আকতে।শুরু করে। একসময় অর্থের পাশাপাশি এসব নকশি কাঁথা তাকে যথেষ্ট সুনামও এনে দেয়। আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে নকশি কাঁথার এ তাৎপর্যের কথাই বলা হয়েছে। এ থেকে বােঝা যায় রহিমার কাজটি আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে উল্লেখিত নকশি কাঁথা তৈরির ঐতিহ্যের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ। ‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী যথাযথ সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে উদ্দীপকের রহিমার অবদান আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

আমাদের দেশের মানুষ অবসর কাটানাের জন্যই মূলত লােকশিল্পের চর্চা করে। ‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে এসব শিল্পের ঠিকভাবে সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক সংকট কাটানাে যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর, শহরতলি এবং গ্রামের হাজার হাজার নারীপুরুষ আছে, যারা কাজ করতে চায় অথচ কাজের অভাবে তারা দিনদিন দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে। তারা লােকশিল্প তৈরির দিকে মনােযােগী হলে তাদের সমস্যা অনেকটা লাঘব হতে পারে।

উদ্দীপকে রহিমা স্বামীর মৃত্যুর পর উপায় না দেখে সুই-সুতা হাতে নেয়। নকশি কাঁথায় নিজের জীবন কাহিনি আঁকতে আঁকতে সেও।নিজের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়। মােটা, অর্থপ্রাপ্তির পাশাপাশি সে সুনাম অর্জন করে।।এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে লােকশিল্পের সম্পর্ক বেশ পুরােনাে। যুগ যুগ ধরে এদেশের কুটিরশিল্পের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ঐতিহ্য ও সুনাম ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহেরও ব্যবস্থা হয় এ শিল্পের মাধ্যমে। উদ্দীপকের রহিমার কাজটি একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ায় সে নিজে এবং দেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়।

প্রশ্ন ২। সেঁজুতির স্কুলে বার্ষিক লােকশিল্প মেলা চলছিল। সে মেলায় মাটির তৈরি একাধিক পুতুল জমা দেয়। সেগুলাে একটি গ্রামীণ পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করে। দর্শনার্থী; বিচারক এবং প্রতিযােগী সবাই। মুগ্ধ হয়ে দেখেন এটি। একজন মন্তব্য লেখেন, আমাদের লােকশিল্প যে সমৃদ্ধ তা বলে শেষ করার মতাে নয়। কিন্তু সময় ও রুচির পরিবর্তনে তা আজ বিলুপ্তপ্রায়। আমাদের সকলের এখনই এর প্রতি নজর দেওয়া উচিত। নইলে অচিরেই এ শিল্প ধারাকে আমরা হারা।

ক. শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প কোন শিল্পের মধ্যে পড়ে?

খ. বর্ষাকাল নকশি কাঁথা তৈরির জন্য উপহূত সময় কেন?

গ. সেঁজুতির উদ্যোগ আমাদের লােকশিল্পের কোন কারিগরের শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করাে।

ঘ. উদ্দীপকে লােকশিল্প বাচিয়ে রাখার যে তাগিদ অনুভূত হয়েছে তা আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখকের বক্তব্যকে সমর্থন করে কি? তােমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প লােকশিল্পের মধ্যে পড়ে।

খ। বর্ষাকালে গ্রামের মেয়েদের ঘর-সংসারের কাজ কম থাকে বলে তা নকশি কাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়।

নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লােকশিল্প। গ্রামের সুচিকর্মে নিপুণ নারীরা বর্ষণমুখর দিনের অবসরে এসব শৌখিন কাঁথা সেলাই করে। বর্ষাকালে মেয়েদের সংসারে কাজের চাপ কম থাকে বলেই এটি নকশি কাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়।

গ। সেঁজুতির উদ্যোগ আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের মৃৎশিল্পের কারিগরদের শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে।

আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বাংলাদেশের লােকশিল্পের নানান দিক নিয়ে আলােচনা করেছেন। তিনি লক্ষ করেছেন এখনাে আমাদের দেশে লােকশিল্পের চর্চা অব্যাহত রয়েছে। এসব শিল্পসামগ্রী আমাদের গর্বের বস্তু। এসব লােকশিল্পের একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ হলাে মৃৎশিল্প। এদেশের মৃৎশিল্প গুণে ও মানে অনন্য।

উদ্দীপকের সেঁজুতির স্কুলে বার্ষিক লােকশিল্পের মেলা চলছিল। সেঁজুতিও তাতে অংশগ্রহণ করে। সে এ মেলায় মাটির তৈরি একাধিক পুতুল জমা দেয়। এসব পুতুল প্রকৃতপক্ষে মৃৎশিল্পের পরিচয় বহন করে। বস্তুত এদেশের মৃৎশিল্পের চর্চা বহুকাল ধরে চলে আসছে। এটিই এদেশের লােকশিল্পের সবচেয়ে প্রাচীন ধারা। প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি শিল্পীরা বংশপরম্পরায় এ শিল্পের চর্চা করে আসছে। আলােচ্য প্রবন্ধেও এ বিষয়ে আলােকপাত করা হয়েছে। সে বিবেচনায়

উদ্দীপকের সেঁজুতির কর্মকাণ্ড, মৃৎশিল্পের কারিগরদেরই প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ। উদ্দীপকে লােকশিল্প বাঁচিয়ে রাখার যে তাগিদ অনুভূত হয়েছে, তা আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে প্রকাশিত লেখকের বক্তব্যকে পুরােপুরি সমর্থন করে।

‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের লােকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার কথা এসেছে। এখানে লােকশিল্পের অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া একে রক্ষা করার তাগিদও এ প্রবন্ধে দেওয়া হয়েছে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মন্তব্যে লােকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যাপারে সেঁজুতি প্রাণের তাগিদ অনুভব করেছে। পঠিত প্রবন্ধেও লােকশিল্প রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানাে হয়েছে।

উদ্দীপক ও পঠিত প্রবন্ধের মূল ভাবনা, গ্রামীণ লােকশিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে মািদের পুরােনাে ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা। ‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে আমাদের লােকশিল্পের একটি অতীত ঐতিহ্য ছিল এবং আমরা সচেতনভাবে কাজ করলে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। উদ্দীপকের সেঁজুতি এবং মেলায় মাটির পুতুল দেখে মন্তব্যকারী সবাই লােকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ অনুভব করেছে। তাদের এই মনােভাব আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখকের বক্তব্যকেই সমর্থন করে।

 

প্রশ্ন ৩। কলিদের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাসফরে সােনারগাঁ লােকশিল্প জাদুঘর দেখতে যায়। সােনারগাঁয়ে তখন লােকজ মেলা চলছিল। তারা মেলা ঘুরে ঘুরে মাটির তৈরি ফুলদানি, গহনা, বাসন-কোসন ইত্যাদি দেখে বেশ মজা পেল এবং কিছু জিনিস কিনল। তাদের শিহাব স্যার বললেন, “লােকজ ঐতিহ্যের এসব মূল্যবান জিনিস আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। এ ঐতিহ্যগুলাে রক্ষায় আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত।’

ক. কোন অঞ্চলের কাঠের নৌকা বেশ নিপুণতার দাবি রাখে?

খ. “বর্তমান যুগে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে শুধু পরিচিতই নয়, গর্বেরও বস্তু।” কেন? ব্যাখ্যা করাে।

গ. উদ্দীপকের কলিদের দেখা বস্তুগুলাে আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের কোন উপাদানকে নির্দেশ করে? বর্ণনা করাে।

ঘ. “উদ্দীপকের শিহাব স্যারের বক্তব্যে আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।” বিশ্লেষণ করাে।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। বরিশাল অঞ্চলের কাঠের নৌকা বেশ নিপুণতার দাবি রাখে।

খ। জামদানি শাড়ির সঙ্গে আবহমান বাঙালির অতীত ঐতিহ্য, শিল্পদক্ষতা, আভিজাত্য জড়িয়ে আছে বলে একে গর্বের বস্তু বলা হয়েছে।

জামদানি শাড়ি শুধু কারিগরি দক্ষতা দিয়ে নয়, শিল্পীর শিল্পদক্ষতা দিয়েও তৈরি হয়। আগে যারা মসলিন বুনত, তাদেরই বংশধরেরা জামদানি শাড়ির ঐতিহ্যকে ধারণ করেছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও কারিগরি দক্ষতার মিশেল হয়েছে বলে এটা যেমন বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করেছে তেমনি আমাদের গর্বের বস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গ। উদ্দীপকে কলিদের দেখা বস্তুগুলাে আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের লােকশিল্প ও লােক ঐতিহ্যের নানা উপাদানকেই নির্দেশ করে।

আলােচ্য প্রবন্ধে লেখক আমাদের দেশের লােকশিল্প ও লােক-ঐতিহ্যের নানান বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি লােকশিল্পের নানা বর্ণনা দিয়েছেন এই প্রবন্ধে। লেখক ঢাকাই মসলিন, জামদানি শাড়ি, নকশি কাথা, মাটির তৈরি শিল্প, কাঠের তৈরি শৌখিন জিনিস, বাঁশ প্রভৃতি শিল্পের দিকটি উপস্থাপন করেন।

‘উদ্দীপকের কলিরা বিদ্যালয় থেকে সােনারগাঁ লােকশিল্প জাদুঘরে যায়। সেখানকার মেলায় ঘুরে ঘুরে মাটির তৈরি ফুলদানি, গয়না, বাসন ইত্যাদি দেখতে পায়। এসব উপাদান দেখে তারা অনেক আনন্দ পায়। স্কুলশিক্ষক তাদেরকে এসব লােকজ উপাদান সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন। তিনি লােকশিল্পের বিভিন্ন উপাদান ও এর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আমাদের যত্নবান হতে বলেন। আলােচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের লােকশিল্পের নানান উপাদানের কথা আলােচিত হয়েছে।

ঘ। উদ্দীপকের শিহাব স্যারের বক্তব্যে আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলা যায়।

আলােচ্য প্রবন্ধে লেখক লােকশিল্পের বর্ণনার পাশাপাশি সংরক্ষণের ও সম্প্রসারণের দায়িত্বের কথা ব্যক্ত করেছেন। লােকশিল্প আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাই এ শিল্পকে যথাযথভাবে সংরক্ষণের দায়িত্ব সকলের।

উদ্দীপকে শিহাব স্যারের বক্তব্যেও অনুরূপ ভাবনার পরিচয় পাই। লােকশিল্পের বৈচিত্র্য দেখে মুগ্ধ হয় কলি ও তার বন্ধুরা। তাদের শিক্ষক কথা প্রসঙ্গে বলেন যে এসব লােক-ঐতিহ্য বিলুপ্তপ্রায়। আমাদের সকলের উচিত হারানাে ঐতিহ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া। শিহাব স্যারের দায়িত্ব সচেতনতার পরিচয় পাই এই উক্তিতে।

উদ্দীপক এবং আলােচ্য প্রবন্ধে লােকশিল্প সংরক্ষণের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। লােকশিল্প আমাদের সম্পদ। তাই একে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের । আপন পরিবেশ ও পরিস্থিতির দিকে আমাদের হৃদয় দিয়ে তাকানো উচিত। কেননা, আমাদের এ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আজ বিলুপ্তপ্রায়। লােকশিল্পের ভেতর দিয়ে হৃদয়-মনের প্রকাশ ঘটানাে উচিত। যাতে তা বিদেশিদের হৃদয়ে সাড়া জাগায়। কেননা, লােকশিল্প আমাদের আভিজাত্যের প্রকাশক, গৌরবের বস্তু, লােকশিল্প সম্পর্কিত এই ভাবনা উদ্দীপকের শিহাব স্যারের বক্তব্যে এবং প্রাবন্ধিকের উক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের শিহাব স্যারের বক্তব্যে আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে’- মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৪। রাইসা তার মামার বাসায় বেড়াতে গিয়ে দেখে, তার মামার ঘরের অধিকাংশ আসবাবপত্র বাঁশ ও বেতের তৈরি। ঘর সাজাতেও তিনি নানা রকম বাঁশ-বেতের দ্রব্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাইসা তার মামার বুচিবােধের প্রশংসা করলে মামা বলেন, “এগুলাে শুধু রুচিবােধের বিষয় নয়, এর সাথে আমাদের অর্থনীতিরও সম্পর্ক রয়েছে।”

ক. বরিশালের কীসের কাজ বেশ নিপুণতার দাবি রাখে?

খ. হাসিয়া বলতে কী বােঝায়?

গ. রাইসার মামার ব্যবহৃত দ্রব্যাদি আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে উল্লিখিত কোন শিল্পটির প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করাে।

ঘ. রাইসার মামার মন্তব্যটি আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের আলােকে মূল্যায়ন করাে।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। বরিশালের কাঠের নৌকার কাজ বেশ নিপুণতার দাবি রাখে।

খ। কাঠের তৈরি খাট, পালঙ্ক, খুঁটি, দরজা ইত্যাদিতে যে কারুকার্য করা হয়, সে কাজকে ‘হাসিয়া’ বলে।

গৃহনির্মাণের কাজে কাঠের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। ঘরের দরজা, খুঁটি, আসবাবপত্র, নৌকা প্রভৃতি জিনিসে কাঠের ব্যবহার দেখা যায়। এ সকল জিনিসে কারুকার্য করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। কাঠের জিনিসে এরূপ নকশা বা কারুকার্যকে ‘হাসিয়া’ বলে।

গ। উদ্দীপকের রাইসার মামার ব্যবহৃত দ্রব্যাদি আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধে উল্লিখিত বাঁশ ও বেতের শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।

‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে কুটিরশিল্পের বিভিন্ন উপাদানের পরিচয় প্রদান করা হয়েছে। কুটিরশিল্পের এসব উপাদানের মধ্যে বাঁশ ও বেতের শিল্প অন্যতম। এই বাঁশ ও বেত দিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই নানা রকম ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি হয়ে আসছে। সেগুলাে আমরা ঘর সাজাবার জিনিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়ােজনীয় কাজে ব্যবহার করি ।

উদ্দীপকে রাইসার মামার ব্যবহৃত সকল তৈজসপত্র বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা আকারের এবং ডিজাইনের এসব তৈজসপত্র উন্নত রুচিবােধেরও পরিচায়ক। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীরা সারাবছরই এ সকল জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। রাইসার মামার ঘরের অধিকাংশ আসবাবপত্রই বাঁশ ও বেতের তৈরি। আর এই বাঁশ ও বেতের তৈরি শিল্পের পরিচয় আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধেও তুলে ধরা হয়েছে। সে বিবেচনায় রাইসার মামার ব্যবহৃত দ্রব্যাদি আলোচ্য প্রবন্ধের বাঁশ ও বেত শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ। উদ্দীপকের রাইসার মামার মন্তব্যটি আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী যথাযথ সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে মৃৎশিল্প আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে লেখক আমাদের লােকশিল্প ও লােক ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। আমাদের দেশের মানুষ অবসর কাটানাের জন্যই মূলত লােকশিল্পের চর্চা করে। এসব শিল্প যথাযথভাবে সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক সংকট কাটানাে যেতে পারে।

উদ্দীপকে রাইসার মামা ঘর সাজানােসহ দৈনন্দিন নানা কাজে বাঁশ ও বেতের তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহার করেন। এটা তার রুচিবােধকেই প্রকাশ করে। রাইসার মামার বক্তব্য অনুযায়ী, বাঁশ ও বেতের শিল্প একইসাথে যেমন উন্নত রুচিবােধকে তুলে ধরে সেই সজো এ শিল্পের অগ্রগতিতে আমাদের আর্থিক সংকটও দূর করা সম্ভব। কেননা, ঐতিহ্যের ধারক এ শিল্পের অগ্রগতি বেকার সমস্যা দূর করতেও ভূমিকা রাখে।

উদ্দীপকে রাইসার মামার বক্তব্য এবং আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে লেখকের আশাবাদ ইতিবাচক। এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে লােকশিল্পের সম্পর্ক বেশ পুরােনাে। যুগ যুগ ধরে এদেশের কুটির শিল্পের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানি হচ্ছে। ঐতিহ্য ও সুনাম ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এসব শিল্পে জীবিকা নির্বাহেরও ব্যবস্থা হয়। হাজার হাজার মানুষ আছে যারা কাজ করতে চায় অথচ কাজের অভাবে তারা দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে। লােকশিল্পের মাধ্যমে তাদের দরিদ্রতারও অবসান ঘটবে। উদ্দীপকের রাইসার মামার বক্তব্য ও আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে লেখকের আশাবাদ অনুসারে এ কথা বলা যায়, লােকশিল্পের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও সম্পর্ক রয়েছে।

 

প্রশ্ন ৫। মাশফির ইদে তার এক বন্ধুকে রংপুরের কারুপণ্যের দোকান থেকে মাটির তৈরি শৌখিন সামগ্রী কিনে উপহার দেয়। বন্ধুটি এরকম উপহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি। মাশফিরও গ্রামীণ ও হস্তশিল্প উপহার দিতে পেরে গর্বিত। মাশফির মনে করে তার মতাে সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে গ্রামীণ এ শিল্পের প্রসারের সাথে আমাদের ঐতিহ্যও রক্ষা পেত।

ক. খাদি কাপড়ের বিশেষত্ব কী?

খ. জামদানি শাড়ি আমাদের গর্বের বস্তু কেন?

গ. উদ্দীপকে মাশফিরের দেওয়া উপহার আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের কোন লােকশিল্পের পরিচয় বহন করে? ব্যাখ্যা করাে।

ঘ. উদ্দীপকের মাশফির এ মানসিকতা আমাদের লােকঐতিহা সংরক্ষণে কতটুকু ভূমিকা পালন করবে? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। খাদি কাপড়ের বিশেষত্ব হচ্ছে এর সবটাই হাতে প্রস্তুত।

খ। জামদানি শাড়ির সঙ্গে আবহমান বাঙালির অতীত ঐতিহ্য, শিল্পদক্ষতা, আভিজাত্য জড়িয়ে আছে বলে একে গর্বের বস্তু বলা হয়েছে।

জামদানি শাড়ি শুধু কারিগরি দক্ষতা দিয়ে নয়, শিল্পীর শিল্পদক্ষতা দিয়েও তৈরি হয়। আগে যারা মসলিন বুনত, তাদেরই বংশধররা বর্তমানে জামদানি শাড়ির ঐতিহ্যকে ধারণ করছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও কারিগরি দক্ষতার মিশেল হয়েছে বলে জামদানি শাড়ি যেমন বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করেছে, তেমনি আমাদের গর্বের বস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গ। উদ্দীপকে মাশফির দেওয়া উপহার আমাদের লােকশিল্প, প্রবন্ধের পােড়ামাটির শিল্পের পরিচয় বহন করে।

আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে লেখক বাংলাদেশের মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এদেশে পােড়ামাটি দিয়ে শিল্পবস্তু তৈরির ঐতিহ্য বহু পুরােনাে। বাংলাদেশের কুমাের হাঁচ বানিয়ে ও পুড়িয়ে তৈরি করে তৈজসপত্র, খেলনা, দেব-দেবীর মূর্তিসহ নানান ধরনের প্রয়ােজনীয় আসবাবপত্র। আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, কৌটা ইত্যাদি শৌখিন জিনিসও তারা বানায়।

উদ্দীপকে বর্ণিত মাশফির তার বন্ধুকে মাটির তৈরি শখের সামগ্রী উপহার দেয়। এ সামগ্রীগুলাে বাংলার পােড়ামাটির শিল্পের অনন্য নিদর্শন। আলােচ্য প্রবন্ধেও এই বিষয়টির কথা বলা হয়েছে। বাংলার কুমাের সম্প্রদায় হাজার বছর ধরে এই শিল্পের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। প্রতীকধর্মী মাটির টেপা পুতুলগুলাের মধ্যে কুমােরদের শত বছরের যে কারিগরি দক্ষতা ও শিল্পীমনের পরিচয় পাওয়া যায় তা অভাবনীয়। পােড়ামাটির শিল্পের এ দিকটিই উদ্দীপকে এবং আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে।    

Leave a Comment