আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের মূলভাব ও ব্যাখ্যা আমাদের

আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের উৎস

‘আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধটি ‘আমাদের লোকদৃষ্টি’ গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে ।

 

আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের পাঠের উদ্দেশ্য

এই প্রবন্ধটি পাঠ করে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকশিল্প ও লােক-ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে পারবে। 

তারা দেশের লােকশিল্প সম্পর্কে আগ্রহী ও শ্রদ্ধাশীল হবে এবং তা সংরক্ষনে তৎপর হৰে । লােকশিল্পের মাধ্যমে তারা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারবে। 

আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের মূলভাব

আমাদের লােকশিল্প’ প্রবন্ধটি আমাদের লােকদৃষ্টি’ গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে । লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের

লােকশিল্প ও লােক ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এ বর্ণনায় লােকশিল্পের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববােধের পরিচয় রয়েছে। আমাদের নিত্য ব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের উপর নির্ভরশীল । শিল্পগুন বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লােকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে। অতীতে আমাদের দেশে যে সমস্ত লােকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতাে তার অনেকগুলােই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল । ঢাকাই মসলিন ত্যর অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু।

নকশিকাঁথা আমাদের একটি গ্রামীণ লােকশিল্প । আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাঁদের মনের মতাে করে কাঁথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরনা পেতেন। কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ , তাদের জীবনগাথা। আমাদের দেশের কুমাের পাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পােড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মুর্তি ও আধুনিক রুচির ফলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে। খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের গ্রামের ঘরে ঘরে যে শিকা, হাতপাখা, ফুলপিঠা তৈরি করা হয় তা মােটেই অবহেলার জিনিস নয়। কাপড়ের পুতুল তৈরি করা আমাদের দেশের মেয়েদের একটি সহজাত শিল্পগুন। 

এসব পুতুল শুধু আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও জীবনের প্রতিনিধিত্বই করে না, এগুলাে বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিক ভাবেও স্বাবলম্বী হওয়া যায় ।

 

আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি

* কামরুল হাসান ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন।

* তার আঁকা ছবিতে এদেশের লােকজ জীবনের নানা উপাদান আমাদের ঐতিহ্য-সচেতন করে ।

* লােকশিল্প সংরক্ষনেও তাঁর প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়।

* কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনার কাজে নিয়ােজিত ছিলেন।

* তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম – বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন ও আমার কথা।

* ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে কামরুল হাসান ঢাকায় মৃত্যু বরন করেন।

আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ন তত্ত্ব

* মসলিন তৈরী করত – ডেমরা এলাকার তাঁতিরা।

* মসলিন তৈরী হতাে – অতি সূক্ষ্ম এক ধরনের সুতা দিয়ে ।

* বাংলাদেশের মানুষের জীবনের সংগে কুটির শিল্প মিশে আছে – নিবিড়ভাবে ।

* শিল্পগুন বিচারে কুটির শিল্প – লােকশিল্পের অন্তর্গত।



* বর্তমানে আমাদের গর্বের বস্তু , জামদানি শাড়ি।

* একটি নকশি কাঁথা সেলাই করতে সময় লাগতাে – প্রায় ছয় মাস।

* নকশি কাঁথার ফোড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে – পরিবারের জীবনকাহিনি।

* জামদানি ৰােনার জন্য উপযােগী – শীতলক্ষ্যা নদীর হাওয়া।

* মণিপুরিদের বাস – সিলেটের মাছিমপুরে।

* আমাদের দেশের মেয়েদের সহজাত শিল্পগুন – কাপড়ের পুতুল তৈরী।

* লােকশিল্প সংরক্ষন ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব – সকলের।

* নিবিড় শব্দের অর্থ – ঘনিষ্ঠ।

* দেশি মানুষের হাতে তৈরি শিল্পসম্মত দ্রব্যকে বলে – লােকশিল্প ।

* যা মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না – অমূল্য।

* অপ্রতুল অর্থ – যথেষ্ট নয়।

* লােপ পেতে বসেছে এমন কিছুকে বলে – বিলুপ্তপ্রায়।

* হিন্দুসম্প্রদায়ের বিয়ের সময় বর মাথায় পরে – টোপর ।।

* অতীতের গর্ব ও গৌরবের বস্তুকে বলে – ঐতিহ্য।

* সংরক্ষন অর্থ – বিশেষভাবে রক্ষা করা।

* সম্প্রসারন বলতে বােঝায় – বিস্তার করা।

* বিক্রয় করা যায় এমন জিনিসকে বলে – পণ্য।

* আমাদের লােকশিল্প প্রবন্ধে গভীর মমত্ববােধের পরিচয় পাওয়া যায় – লােকশিল্পের প্রতি।

* আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিস নির্ভর করে – কুটির শিল্পের ওপর।

* মসলিন শাড়ির স্থান দখল করেছে – জামদানি শাড়ি।

* নকশিকাঁথা হলাে এক প্রকার – গ্রামীণ লােকশিল্প।

* মেয়েরা নকশিকাঁথা তৈরী করে – মনের মতাে করে।

* পােড়ামাটি দিয়ে শৌখিন দ্রব্য তৈরী করে – কুমােরেরা।

* শীতল পাটির জন্য বিখ্যাত – সিলেট।

* ঢাকার মসলিন এক সময় বিলাসের বস্তু ছিল – মুঘল বাদশাদের।

* জামদানি কারিগরদের বসবাস – নারায়ণগঞ্জ জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে।

* নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত ঋতু – বর্ষা।

* কাঠের নৌকা বিখ্যাত – বরিশাল জেলার।

* ঢাকার নবার পরিবার শীতল পাটি তৈরী করত – হাতির দাঁত দিয়ে ।

* আমাদের দেশের মেয়েদের একটি সহজাত শিল্পগুন হলাে – কাপড়ের পুতুল তৈরী করা ।

* শহরের আধুনিক পরিবেশে সমাদর রয়েছে – খাদি কাপড়ের।

* এক একটি নকশিকাঁথার ভিতর লুকিয়ে আছে – গ্রামীণ মেয়েদের এক একটি পরিবারের কাহিনি,পরিবেশ ও জীবনগাঁথা।

* শীতলক্ষ্যার তীরে বড় বড় কাপড়ের কারখানা গড়ে উঠেছে – ভৌগলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার ভিত্তিতে।

* মসলিন কাপড়ের বিশেষত্ব হলাে – এ কাপড় খুবই সুক্ষ্ম সুতা দিয়ে বােনা হতাে এবং মিহি ।

* খাদি কাপড় ব্যবহার শুরু হয় – স্বদেশি আন্দোলনের যুগে।

* আজ আমাদেরকে শুধুর পরিবেশ ও পরিস্থিতির দিকে শুধু চোখ দিয়ে তাকালেই চলবে না – হৃদয় দিয়েও তাকাতে হবে।

* দেশে দেশে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করতে পারে – লােকশিল্প।

* আমাদের দেশে অপ্রতুল নয় – বাঁশ ।

Leave a Comment