অতিথির স্মৃতি গল্পের উৎস ও পাঠের উদ্দেশ্য

অতিথির স্মৃতি গল্পের উৎস

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পটি কিছুটা পরিমার্জনা করে পাঠ্য বইয়ে ‘অতিথির স্মৃতি‘ শিরােনামে সংকলিত হয়েছে।

অতিথির স্মৃতি গল্পের পাঠের উদ্দেশ্যঃ

এ গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সহানুভূতিশীল হবে।

অতিথির স্মৃতি গল্পের মূলবিষয়বস্তুঃ

একটি প্রাণীর সংগে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কই এ গল্পের বিষয়বস্তু । ডাক্তারের নির্দেশে অবকাশ যাপনকালে একটি কুকুরের সংগে লেখকের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক দিখিয়েছেন, মানুষে মানুষে যেমন স্নেহপ্রীতির সম্পর্ক অন্য জীবের সংগেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক নানা প্রতিকুল কারনে স্থায়ীরূপ পেতে বাধাগ্রস্ত হয়। আবার এই সম্পর্কের সুত্র ধরে একটি মানুষ ওই জীবের প্রতি যখন মমতায় সিক্ত হয়। তখন অন্য মানুষের আচরন নির্মম হয়ে উঠতে পারে। সম্পর্কের বিচিত্র রূপ এ গল্পে প্রকাশিত হয়েছে। 

অতিথির স্মৃতি গল্পের পাঠ বিশ্লেষনঃ

↪শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

↪ জীবিকার সন্ধানে তিনি – রেঙ্গুন (বার্মার রাজধানী) গিয়েছিলেন ।

↪ ১৯০৭ সালে ‘ভারতী’ পত্রিকায় ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হলে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারন বাঙালি পাঠকের আবেগকে তিনি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

↪ তাঁর রচিত উল্লেখযােগ্য উপন্যাস হলাে – পল্লীসমাজ, দেবদাস, শ্রীকান্ত, গৃহদাহ, দেনাপাওনা, পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন প্রভৃতি।

↪ সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিনী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারী এই কালজয়ী কথাশিল্পী মারা যান।

↪ শরৎচন্দ্রের দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পটির নাম পাল্টে এবং ঈষৎ পরিমার্জনা করে এখানে অতিথির স্মৃতি হিসেবে সংকলন করা হয়েছে।

↪ মানবেতর একটি কুকুরের সংগে একজন মানুষের গড়ে উঠা মমত্বের সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে গল্পটিতে।

↪ দেওঘর – ভারতের একটি স্বাস্থ্যকর স্থান। লেখক অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তারের পরামর্শমত এখানে এসেছিলেন বায়ু পরিবর্তনের জন্য।

↪ ভজন – দেব-দেবী বা ঈশ্বরের প্রশংসা করে প্রার্থনামূলক গান।

↪ পাখি শিকার করে যারা বিক্রি করে তাদেরকে ব্যাধ বলে।

↪ দোর শব্দের অর্থ – দরজা।

↪কুঞ্জ অর্থ – লতাপাতায় ঘেরা বৃত্তাকার স্থান।

↪ বেরিবেরি হলাে – শােথ জাতীয় রােগ। এ রােগে আক্রান্ত হলে হাত পা ফুলে যায়।

↪ শীর্ণ অর্থ – দুর্বল, স্বাস্থ্যহীন, হালকা পাতলা।

↪ফ্যাকাশে অর্থ – রক্তশূন্য মুখমন্ডল।



↪ক্ষুধা হরণের কর্তব্য – ক্ষুধা নিবারনের কাজকে লেখক এখানে ক্ষুধা হরণের কর্তব্য বলেছেন।

↪ বাত ব্যাধিগ্রস্ত – বাত রােগে আক্রান্ত। এ রােগে মানুষ চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে। এটি বার্ধক্য জনিতরােগ।

↪ মালীর মালিনী বলতে – মালীর স্ত্রীকে বােঝানাে হয়েছে।

↪ খাওয়া সম্পর্কে নির্বিকার চিত্ত – বাগানের মালির স্ত্রী বা মালি বৌ বাছ বিচার হীনভাবে প্রচুর খায় । তাকেই বলা হয়েছে খাওয়ার ব্যাপারে নির্বিকারচিত্ত।

↪ চেঁচেপুঁচে নিয়ে গেছে বলতে – লেখক এখানে পাতিল থেকে সব খাবার পরিষ্কার করে নিয়ে যাওয়াকেই বুঝিয়েছেন।

↪ নানা ছলে অর্থ – নানা উসিলা ।
↪ নিস্তব্ধ মধ্যাহ্ন হলাে – নিরিবিলি দুপুর ।

↪ এ গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা – মানবেতর প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সহানুভূতিশীল হবে।

↪ কোন পাখি সবচেয়ে ভােরে উঠে – দোয়েল।

↪ পাখি চালান দেওয়া – ব্যাধের ব্যবসা।

↪ ব্যাধ’ হলাে যারা পাখি ধরে চালান দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।

↪  ভজন গান শুরু হতাে – রাত তিনটে থেকে।

ভজন বলতে বােঝায় – প্রার্থনামূলক সংগীতকে।

↪ পাখিদের মধ্যে একটু দেরী করে আসত – একজোড়া বেনে বৌপাখি।

↪ বেনে বৌপাখি জোড়া ফিরে এসেছিল -তিন দিন পর।

↪ বেনে বৌ পাখি প্রত্যহ হাজিরা হেঁকে যেত – প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপ্টাস গাছের সবচেয়ে উচু ডালটায় বসে।

↪ পাখিদের মধ্যে একটু দেরীতে আসতাে – হলদে রঙের একজোড়া বেনে বৌ পাখি।

↪ দেওঘরে মধ্যবিত্ত গৃহস্থের ঘরে পীড়িতদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি ছিল – মেয়েদের।

↪ পা ফুলাে মেয়েদের রােগটির নাম – বেরিবেরি।

↪ লেখকের সবচেয়ে দুঃখ হতাে – একটি দরিদ্র ঘরের মেয়েকে দেখে।

↪ সন্ধ্যার পুর্বেই ঘরে প্রবেশ করা প্রয়ােজন ছিল – বাত ব্যাধিগ্রস্তদের।

↪ অন্ধকারে লেখকের সংগী হয়েছিল – একটি কুকুর।
↪ অতিথিশালায় বাড়তি খাবারের অংশীদার ছিল – মালীর মালিনী।

↪কুকুরটিকে খেতে দেওয়ার জন্য লেখক প্রথম দিনে নির্দেশ দেন – অতিথিশালার চাকরকে।

↪ কুকুরটিকে খেতে দেওয়ার জন্য লেখক দ্বিতীয় দিনে নির্দেশ দেন – অতিথিশালার বামুনঠাকুরকে।

↪ দ্বিতীয় দিনে কুকুরটা বসেছিল – বাইরের বারান্দার নিচে।

↪ কুকুরটি লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিল – দুপুর বেলা।

↪ লেখকের ট্রেন স্টেশন ছেড়ে দিলে অতিথি দাঁড়িয়ে ছিল – স্টেশনের ফটকের বাইরে।

↪ শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের সংখ্যা – ৪ খন্ড।

↪ লেখকের ঘুম ভেঙ্গে গেল – একঘেয়েমির জন্য। রাত তিনটায়।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির ছেলেমেয়ে – ৩ জন।

↪ লেখকের দেওঘর ছেড়ে যাবার আগে – বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি।

↪ রাত্রিশেষে আনাগােনা শুরু হয় – পাখিদের।

↪ গল্পকথক দেওঘরে নানা ছলে দেরি করলেন – ২ দিন।

↪ বাড়ির ফটককে বলা হয় – সদর দরজা।

↪ ‘কুঞ্জ’ শব্দটির সমার্থক শব্দ – উপবন।

↪ পান্ডুর’ শব্দের অর্থ – ফ্যাকাশে। দরদ অর্থ – মায়া ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের পুর্বনাম – দওঘরের স্মৃতি।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের অতিথি – একটা কুকুর।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র – অতিথি।

কুকুরের সংগে গল্পকথকের সৃষ্টি হয়েছে – মমত্বের সম্পর্ক।

↪ সাধারনত স্নেহপ্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে – মানুষে মানুষে ।

↪ মানুষ মমতায় সিক্ত হয় – সম্পর্কের সুত্র ধরে ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পে প্রকাশ পেয়েছে – সম্পর্কের বিচিত্র রূপ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের মূল বিষয় – প্রাণীর প্রতি মমত্ববােধ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের পাখিগুলাে – দোয়েল ,বুলবুলি ,শ্যামা,শালিক,টুনটুনি,বেনে-বৌ।

↪ বিকেল হলে কথক বসে থাকে – গেটের বাইরে পথের ধারে।

↪ মধ্যবিত্ত পীড়িতদের মধ্যে – মেয়েদের সংখ্যাই বেশী।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির সাথে – তিনটি ছেলেমেয়ে ছিল।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির বয়স – চব্বিশ পঁচিশ বছর।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির চোখের চাহনি ছিল – ক্লান্ত।

↪ক্ষুধাহরন অর্থ – কিছু খেয়ে ক্ষুধা নিবারন করা।

↪বৃদ্ধ ব্যক্তিরা দ্রুতপদে বাসায় ফিরছিল – সন্ধ্যার আগে।
↪ খাওয়া সম্বন্ধে নির্বিকারচিত্ত কথাটির অর্থ হলাে – বেচে যাওয়া খাবার অন্য কাউকে দিতে নারাজ। 

↪ চাকরদের দরদ বেশী – মালিনীর পরে।

↪ শরীর খারাপ থাকায় কথক নিচে নামতে পারেননি – দিন দুই।

Leave a Comment